- দে । শ
- ডিসেম্বর ২১, ২০২৩
টোটো শব্দভান্ডার গড়ে নজির ব্যাঙ্ক কর্মী ভক্তের
টোটো ভাষার শব্দকে বাংলা ও ইংরেজিতে অনুবাদ করে নজির গড়লেন আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা ভক্ত টোটো। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে নিজের ভাষাকে আরও বেশি জনপ্রিয় এবং সংরক্ষণের লক্ষ্যে টোটো ভাষার ‘অভিধান” তৈরি করে একেবারে নজির গড়লেন টোটোপাড়ার এই কৃতী।
কথ্য ভাষা হলেও টোটো ভাষার কোনও লিপি ছিল না। সেই ভাষার লিপি তৈরি করে কিছুদিন আগেই টোটোপাড়ার ধনিরাম টোটো এখন জনপ্রিয়। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি “পদ্মশ্রী” পুরষ্কারও পেয়েছেন । এবার সেই টোটো ভাষার শব্দকে বাংলা ও ইংরেজিতে অনুবাদ করলেন টোটোপাড়ার আর এক বাসিন্দা পেশায় ব্যাঙ্ক কর্মী ভক্ত টোটো। ভক্ত টোটোর এই কাজকে অভিধান বললেও অতুক্তি হয় না। যদিও অভিধান বলতে আপত্তি ভক্ত টোটোর। তাঁর কথায়, “এটা অনেকটা ওয়ার্ড বুকের মতো শব্দ ভান্ডার।”
২০২৩-এর অগাস্ট মাসে কলকাতার ভাষা সংসদ দ্বারা প্রকাশিতও হয়েছে ভক্ত টোটোর এই অভিধান, যার নাম “টোটো শব্দ সংগ্রহ।” যেখানে প্রায় ৮৮ পৃষ্টার ১২০০ শব্দের বেশি টোটো শব্দের বাংলা ও ইংরেজি অর্থ রয়েছে। যদিও টোটো ভাষার শব্দগুলোকে বাংলা লিপিতেই ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর এই সৃষ্টিতে। যেমন, “কুং” শব্দের বাংলা “আমার” এবং ইংরেজিতে “My” হবে। এই বাংলা লিপি ব্যাবহারের কারণ হিসেবে ভক্ত টোটোর দাবি, “টোটো লিপি বলে এতদিন কিছুই ছিল না। শুধুই বংশানুক্রমে মুখে মুখে চলে এসেছে এই ভাষা। বর্তমানে তাঁরই প্রতিবেশী পদ্মশ্রী ধনিরাম টোটো এই লিপির সৃষ্টি করলেও তা আয়ত্ত্বে আনতে পড়াশোনার দরকার। কিন্তু, বহু আগে থেকে তিনি ধীরে ধীরে এই অনুবাদের কাজ শুরু করায়, তা এই অভিধানে সংযোজন করা এই মুহুর্তে সম্ভব ছিল না।”
ভক্ত টোটোর জন্ম ১৯৬৪ সালের ৫ এপ্রিল, আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের টোটোপাড়ায়। গ্রামের স্কুল থেকে প্রাইমারির পর কোচবিহারের দিনহাটার একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। তারপর আবার জোড়াইয়ের একটি স্কুল থেকে ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। টোটো উপজাতির মধ্যে দ্বিতীয়জন হিসেবে সেই সময় মাধ্যমিক পাস করেছিলেন ভক্ত টোটো। যদিও বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক দিলেও তিনি অকৃতকার্য হন। তবে এরপরেই ব্যাঙ্কের চাকুরিতে যোগদান করেন ভক্ত টোটো। বর্তমানে নিজের গ্রামের এক ক্ষেত্রীয় গ্রামীণ ব্যাঙ্ক শাখা থেকেই এখন অবসরের পথে ভক্ত টোটো।
ভক্ত টোটো চাকরির পাশাপাশি কবিতা, গল্প লেখার নেশা আছে। সেই কারণেই টোটো জনজাতি নিয়ে চর্চা করা গবেষকদের সাহা্য্যও করতেন তিনি। আর গবেষকদের সেই টোটো ভাষা বিশ্লেষণ করতে গিয়েই ভক্ত টোটোর মনে হয়েছিল অনুবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা। পাশাপাশি তাঁর আক্ষেপ ছিল সবার মতো টোটো ভাষার কোনও লিপি না থাকা। যদিও টোটো ভাষার লিপি না থাকলেও সেই শব্দগুলো বাংলা বা ইংরেজি লিপিতে ব্যাবহার করে লেখার কাজ অনেক বেশি সহজ হবে বলেও মনে হয়েছিল ভক্ত টোটোর।
টোটো জনজাতির বর্তমান প্রজন্ম এখন বাংলা, হিন্দি বা ইংরেজি মাধ্যমেই পড়াশোনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ফলে টোটো ভাষার সেই শব্দগুলোর যদি বাংলা বা ইংরেজিতে অনুবাদ করার কথা জানা থাকে, তাহলে যেমন নব প্রজন্ম উপকৃত হবে তেমনি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহ বাড়বে টোটো ভাষায় প্রতি। আর সেই কাজটাই জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে করছেন ভক্ত টোটো। ভক্ত টোটোর বক্তব্য, “এখানেই আমি থেমে থাকছি না। এভাবেই আরও সমৃদ্ধ করতে চাই শব্দ ভান্ডারকে। এমনকি এর সঙ্গে টোটো ভাষার লিপিও জুড়ে দেবার প্রচেষ্টা থাকবে আমার।”
❤ Support Us






