- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ২৭, ২০২৬
দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে রণক্ষেত্র ভাটপাড়া! প্রার্থীর বাড়ির সামনে গুলি-বোমা, আক্রান্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর সহ ৪
দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হল। অর্জুন সিংয়ের ছেলে তথা ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ির সামনে গভীর রাতে গুলি ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান, যিনি পবন সিংয়ের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আহত সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলি কারা চালিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিং জানিয়েছেন, সিআইএসএফ জওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য, তাঁর ছেলে ও ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন সিং ও সিআইএসএফ জওয়ানকে খানের জন্যই তৃণমূল দুষ্কৃতীরা গুলি করেছে। এই ঘটনায় ৪ জনকে পুলিশ ধরেছে। পুলিশের জালে তৃণমূলের কাউন্সিলর গোপাল রাউত। ১৫ জনের বাড়িতে ঘটনার রাতেই পুলিশের তল্লাশি। এদিকে ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী গোপাল রাউতের গ্রেফতারির প্রতিবাদে অমিত গুপ্ত তৃণমূলের দলবল নিয়ে ভাটপাড়া থানা ঘেরাও করেছে। থানার সামনে প্রচুর কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। অমিত গুপ্ত মোবাইলের ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করেন অর্জুন সিং এলাকায় সন্ত্রাস করে। বাংলার ভোট প্রচারের শেষ দিন, আজই জগদ্দলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পবন সিং -এর হয়ে প্রচারে আসছেন।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সন্ধ্যায়। অভিযোগ, জগদ্দলের আটচালা বাগান এলাকায় তৃণমূল কর্মী বিট্টু মাহাতো দলীয় পতাকা ও ব্যানার লাগানোর সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে আক্রান্ত হন। এরপর রাতে তিনি অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা সৌরভ সিং, গোপাল রাউত, দেবজ্যোতি ঘোষ-সহ আরও অনেকে। অভিযোগ, খবর পেয়ে অর্জুন সিং তাঁর অনুগামীদের নিয়ে থানায় পৌঁছন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা পরে ধাক্কাধাক্কি এবং শেষমেশ হাতাহাতিতে গড়ায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং থানার বাইরে ইটবৃষ্টি শুরু হয়।
ভাটপাড়ার তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্তর দাবি, তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে এবং থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে অর্জুন সিং দাদাগিরি করে তাঁদের উপর হামলা চালান। তৃণমূল প্রার্থী বলেন, ‘এতদিন জানতাম থানা সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা, এখন বুঝছি বাস্তবটা অন্যরকম।’ যদিও বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েই তাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর রাত বাড়তেই অশান্তির আঁচ পৌঁছয় পবন সিংয়ের বাড়ির সামনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে বোমাবাজি করা হয় এবং অন্তত এক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন পবন সিংয়ের নিরাপত্তারক্ষী যোগেশ শর্মা। সেই সময় তাঁর পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ছোড়া গুলিতেই জখম হয়েছেন ওই জওয়ান। অন্যদিকে তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে বিজেপিরই হাত রয়েছে। ঘটনার পর ভাটপাড়ায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে। কে বা কারা গুলি চালাল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
❤ Support Us







