- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৫
প্রধানমন্ত্রী মোদির মা-কে কটূক্তি, প্রতিবাদে বিজেপি–এনডিএর ৫ ঘণ্টার হরতাল
বিহারের দারভাঙায় অনুষ্ঠিত মহাগঠবন্দন সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রয়াত মা-কে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে পাঁচ ঘণ্টার ‘বিহার বন্ধ’ কর্মসূচী পালন করেছে বিজেপি ও এনডিএ মিত্ররা। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঘোষিত এ বন্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা, জরুরি সাহায্য এবং রেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিবাদের আয়োজক ছিল বিজেপি মহিলা মোর্চা। তারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বিজেপির বিহার রাজ্য সভাপতি দিলীপ জয়সওয়াল জানান, ‘৫ ঘণ্টার এই বন্ধ সফলভাবে রাজ্যজুড়ে পালিত হয়েছে। তবে রেল চলাচল, জরুরি চিকিৎসা সেবা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক পরিষেবা বন্ধের আওতায় ছিল না।’
বৃহস্পতিবার সকালে গয়া ও দানাপুরে বিজেপি ও জেডি (ইউ) কর্মীরা প্রতিবাদ মিছিলের মাধ্যমে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। জেডি(ইউ) নেতা উমেশ কুশাওয়াহা বলেন, ‘দারভাঙায় বিরোধী দলের র্যালিতে প্রধানমন্ত্রী এবং তার মা-এর উপর অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ পর্যন্ত মহাগঠবন্দন নেতারা ক্ষমা চাইনি, যা তাদের অহংকারের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। আমাদের মায়েদের ও বোনদের জঘন্যভাবে অবমাননা করা হয়েছে, তাই আমরা পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছি।’ অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, ‘মা মানেই মা। ‘মা’ শব্দটি মুখে এলেই শান্তি আসে। কারো মা, বোন বা কন্যার প্রতি কখনো অপমানজনক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। কিন্তু যদি প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের প্রয়াত মায়ের নাম নির্বাচনের জন্য প্রচার করেন, তাহলে সেটিও মেনে নেওয়া যায় না। যিনি নারীদের প্রতি সহিংস, অন্য কারোর মা-কে ‘৫০ কোটি টাকার প্রেমিকা’ বলেন, তাহলে সেটি কি অসাধারণ বক্তৃতা না কটূক্তি—এটাও ভাবনার বিষয়।’
বিহারের এ বিতর্ক প্রসঙ্গে মঙ্গলবার সরাসরি নিন্দা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘মা আমাদের জীবন, আত্মসম্মান ও সমাজের মর্যাদার বিষয়। কয়েকদিন আগে বিহারে যা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমার প্রয়াত মাকে আরজেডি-কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে অপমান করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র আমার মায়ের নয়, দেশের সমস্ত মা, বোন ও কন্যার প্রতি অবমাননা।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘আমার মা আমাকে আলাদা করেছিলেন যেন আমি দেশের সেবা করতে পারি। তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর প্রতি এমন অবমাননা আমাদের সকলের জন্য দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। অনেক মায়ের চোখে আমি চোখের জল দেখতে পাচ্ছি, যা হৃদয়বিদারক।’
এদিকে, রাজ্যজুড়ে ৫ ঘণ্টার এ বনধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদী কর্মসূচি চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আগামী বিধানসভা নির্বাচনের রণনীতি ও প্রচারণার প্রভাবকে আরো তীব্র করতে পারে।
❤ Support Us








