Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫

গর্ভবতী করতে পারলেই মিলবে ১৫ লাখ, বিহারে সাইবার প্রতারণার বিচিত্র ফাঁদ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গর্ভবতী করতে পারলেই মিলবে ১৫ লাখ, বিহারে সাইবার প্রতারণার বিচিত্র ফাঁদ

দেশে বাড়ছে বেকারত্ব, একইসাথে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সাইবার ক্রাইমের বাড়বাড়ন্ত। অপরাধীদের পাতা নিত্যনতুন ফাঁদে সর্বশান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ডিজিটাল প্রত্যারণার জগতে বিহার এই মুহূর্তে দেশের শীর্ষে। জামতারার পর বিহারের নাওয়াদা জেলা। সন্তানহীন মহিলাদের অন্তঃসত্ত্বা করতে হবে! তাহলেই পাওয়া যাবে কড়কড়ে ১৫ লক্ষ টাকা। এমন অভাবনীয় প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল নাওয়াদা জেলার একদল যুবক। অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব সার্ভিস” নামে পরিচিত ‘লোভনীয়’ ফাঁদের শিকার হয়েছেন অনেকেই।

বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে, মুকেশ কুমার অপেক্ষা করেছিলেন, মহিলাকে গর্ভধারণ করিয়ে তিনি ১৫ লক্ষ্য টাকা পেতে চলেছেন। কিন্তু তিনি যে আসলে প্রতারণা চক্রের পাল্লায় পড়েছে, তা বুঝতে তাঁর অনেক দেরি হয়েছে। ফাঁদে পরে অপরাধীদের দিয়েছেন ৬৪০০ টাকা, পরে পুলিশ সেজে প্রতারকরা আরো টাকা দাবি করে। একই ঘটনা ঘটেছে পাটনার এক দর্জির সঙ্গেও। অপরাধীরা নওয়াদা জেলার গ্রামের বাসিন্দা, যেটি ভারতের ‘নতুন জামতারা’ হিসেবে কুখ্যাত। প্রতারিত যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘আমার স্ত্রী আমাদের প্রথম সন্তান প্রসবের জন্ম দিতে চলেছেন। আমার টাকার প্রয়োজন ছিল। তাই ভেবেছিলাম এই কাজ করে যদি সহজেই টাকা রোজগার করা যায়। কিন্তু যেটুকু সঞ্চয় ছিল তাও হারালাম।’

যদিও এটা নতুন কিছু নয়। নাওয়াদা জেলা আগে থেকেই প্রতারণা ও কেলেঙ্কারির জন্য পরিচিত, তবে, এখন প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে এই ধরনের প্রতারণা এখন অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সস্তা স্মার্টফোন এবং ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করে এই প্রতারকরা মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অপরাধীরা বেকার কিন্তু প্রযুক্তি-সচেতন যুবক। কিছু ১৬ বছরের কম বয়সী যুবকেরা রীতিমত সেট-আপ তৈরি করে এ কাজ করে চলেছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস নয়, বরং গ্রামের খোলা মাঠ, বাগানে তাঁদের ‘অফিস’।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই চক্রের মূল হোতা মুন্না কুমার নামে একজন, যিনি মাছের খামার গড়ার অজুহাতে ২৫ জন যুবককে সাইবার অপরাধের প্রশিক্ষণ দেন। পুলিশের মতে, এই চক্র এতই বিস্তৃত যে একাধিক গ্রামে তা ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও পুলিশ কিছু অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু অনেকেই অধরা থেকে গেছে। ডিএসপি প্রিয়া জ্যোতি, যিনি নওয়াদার সাইবার থানার প্রধান, এই কেলেঙ্কারীকে একটি চলমান আশ্চর্য, অভাবনীয় ঘটনার সাথে তুলনা করেছেন৷ তাঁর দলএকইরকম প্রত্যারনার অভিযোগে ২০২৪ সালে ৮ জনকে এবং ২০২৫ সালের শুরু থেকে আরো ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সংবাদপত্রের শিরোনাম দখল করেছিল সেই জেলা।

৫ জানুয়ারি দুপুরে দিকে ডিএসপি জ্যোতির নেতৃত্বে ৬ জন পুলিশ সদস্য তিনটি বাইকে করে কাহুয়ারা গ্রামের মধ্য দিয়ে যায়। সাদা পোশাকের দলটি সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করলে ৪ যুবক মাঠের ভিতর দিয়ে পালিয়ে যায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে যেতে থাকেন গ্রামের পুরুষরা। অবশেষে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে নতুন করে ঘটনায় গ্রেফতারি সমুদ্রের একটি বিন্দুর মতো।

২০০০-সালের গোড়ার দিকে, খবরের কাগজ, পুস্তিকা এবং ম্যাগাজিনগুলি ক্যান্সার নিরাময়ের প্যানেসিয়াস এবং এনার্জি বুস্টিং ক্যাপসুলের বিজ্ঞাপণ দেওইয়া হতো। যা আসলে নকল ওষুধ। ‘পেহচান কৌন’ বলে দুরদর্শনে পরিচিত অনুষ্ঠানও স্ক্যামেরই অংশ ছিল। এই সবই চলছিল জালিয়াতি পোস্ট অফিসের মানি অর্ডার, জমি কেলেঙ্কারি, হানি ট্র্যাপ এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিক্রির মতো অফলাইন অপরাধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে। কিন্তু আজকের ডিজিটাল জমানায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। অপরাধীদের হাতে পিস্তলের বদলে রয়েছে স্মার্টফোন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!