- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৮, ২০২৬
এনসিপির দুই গোষ্ঠীর একীভবন না হলে এনডিএ-তে জায়গা নয় ! মহারাষ্ট্রে বিজেপির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের জোরালো হয়েছে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলনের জল্পনা। তবে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি (এসপি) যদি ভবিষ্যতে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-তে যোগ দিতে চায়, তাহলে তার আগে এনসিপির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের একীভূত হওয়া বাধ্যতামূলক।
বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, শরদ পওয়ার বা তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের আলাদাভাবে এনডিএ-তে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও পরিকল্পনা নেই। প্রথমে অজিত পওয়ার এবং শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন দুই গোষ্ঠীকে এক হয়ে মূল এনসিপি হিসেবে ফিরে আসতে হবে, তারপরই এনডিএ-তে তাদের আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
২০২৩ সালের জুলাই মাসে অজিত পওয়ার একাধিক প্রবীণ নেতাকে নিয়ে এনসিপি ভেঙে বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-র সরকারে যোগ দেন। পরে নির্বাচন কমিশন অজিত পওয়ারের গোষ্ঠীকেই এনসিপির আসল দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং দলীয় নাম ও প্রতীকও তাদের হাতে তুলে দেয়।
অন্যদিকে, শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বর্তমানে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পওয়ার) বা এনসিপি (এসপি) নামে রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও দুই গোষ্ঠী আলাদাভাবে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও, সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠকের পর পুনর্মিলনের জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।
বর্তমানে মহারাষ্ট্রে বিজেপি ও একনাথ শিন্ডের শিবসেনার সঙ্গে সরকারে থাকা অজিত পওয়ারের এনসিপি জাতীয় স্তরেও নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি তুলেছে। শুক্রবার দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলের কর্মীরা চান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া পার্থ পওয়ারকে পরবর্তী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে মন্ত্রী করা হোক।
এনসিপির মুখপাত্র উমেশ পাটিল বলেন, এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার আশা করাই স্বাভাবিক। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে। পাশাপাশি পার্থ পওয়ার ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য এনসিপির সভাপতি সুনেত্রা পওয়ারের সম্মতিও প্রয়োজন হবে।
সম্প্রতি শাসক এনসিপির অন্দরে মতভেদের খবরও সামনে এসেছে। যদিও দলের প্রবীণ নেতা প্রফুল প্যাটেল ও সুনীল তটকরে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা আরও বেড়েছে, কারণ আগামী সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে কেন্দ্র সংবিধানের (১৩১তম সংশোধনী) বিল আনতে চলেছে। এই বিলে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পাশাপাশি নতুন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) করার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্তমানে লোকসভায় এনসিপি (এসপি)-র আটজন এবং রাজ্যসভায় একজন সদস্য রয়েছেন। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ বিলের ক্ষেত্রে তাদের সমর্থন কিংবা নিরপেক্ষ অবস্থানও কেন্দ্রের কাছে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
এনসিপি (এসপি)-র কার্যকরী সভাপতি এবং বারামতির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে সম্প্রতি বলেন, যদি সব রাজ্যে সমানভাবে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হয়, তাহলে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করার বিশেষ কারণ থাকবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং দল এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়নি।
এনডিএ-তে যোগদানের জল্পনাও খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিয়া সুলে। তাঁর কথায়, গত ১২ বছর ধরে সংবাদমাধ্যম বারবার তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি।
এরই মধ্যে বুধবার গভীর রাতে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের সরকারি বাসভবনে এনসিপির দুই গোষ্ঠীর নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়। যদিও সূত্রের দাবি, ওই বৈঠক কোনও রাজনৈতিক পুনর্মিলনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
এনসিপি (এসপি)-র প্রবীণ নেতা জয়ন্ত পাটিল জানান, তিনি নিজের সাংগলি জেলার একটি প্রশাসনিক সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। পাশাপাশি তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতে বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের মৃত্যুর পর দুই গোষ্ঠীর পুনর্মিলনের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
শুক্রবার জয়ন্ত পাটিল উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের সঙ্গেও বৈঠক করেন। উরুন-ইসলামপুর পুরসভার সভাপতি আনন্দরাও মালগুন্ডে এবং কাউন্সিলর সুনীল মালগুন্ডের অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি এই বৈঠক করেন।
অন্যদিকে, শরদ পওয়ারও গত সপ্তাহে তাঁর দলের বিধায়কদের নিয়ে উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের দপ্তরে বৈঠক করেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। তবে সুপ্রিয়া সুলের দাবি, ওই বৈঠকের জন্য শিন্ডের দপ্তর ব্যবহার করা নিছকই কাকতালীয় ঘটনা, এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের সম্পর্ক নেই।
❤ Support Us








