- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৮, ২০২৬
অনশন মঞ্চ থেকে সোনাম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে গেল পুলিশ, অনির্দিষ্টকালের অনশনে এবার অভিজিৎ দীপকে
টানা ২০ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পরই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র নেতা অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে বসার ঘোষণা করেন।
২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রায় বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, দেশে পেঁয়াজের দামের জন্য যদি সরকারকে জবাবদিহি করতে হয়, তবে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার কথিত অনিয়মের জন্যও জবাবদিহি করতে হবে। NEET বিতর্কের জেরে বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। এই বিষয়ে সরকারের জবাবদিহি চেয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেরও দাবি করেছেন। এই ব্যাপারে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছিলেন সেই অভিযানে সামিল হওয়ার। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই আন্দোলনকর্মীর অনশন ভাঙতে অবশেষে বলপ্রয়োগ কেন্দ্রীয় সরকারের।
শনিবার সাত–সকালেই দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২০ দিন ধরে অনশনরত আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক তুলে হাসপাতালে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদস্থল থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। NEET–এর মতো প্রধান পরীক্ষাগুলির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২৮ জুন থেকে অনশন করছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ পাঁচ দফা দাবিতে গত ২০ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অনশন চালিয়ে আসছিলেন সোনম ওয়াংচুক। শুক্রবার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো তাঁর সঙ্গে দেখা করে অনশন তুলে নেওয়ার জন্য আবেগঘন আবেদন জানান। তবে সোনম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন। সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন তাঁর স্ত্রী । এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া তাঁর স্বামীকে কোনও ওষুধ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, তাঁর অনুমতি ছাড়া সোনম ওয়াংচুকের চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ অনুসারে এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে শ্রী সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে তাঁকে অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ পালন করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীরা বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সামান্য হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করে। আমরা যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকারীদের যত দ্রুত সম্ভব শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করছি।’
শনিবার দিনের আলো ফোটার আগেই যন্তর মন্তরে হাজির হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ওয়াংচুক বসে থাকার সময় দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। উর্দিধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকেরও পুলিশ ছিল। পুলিশ জোরপূর্বক অনশন মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তাদের বাধা পেরিয়ে সোনমের কাছে পৌঁছে যায় পুলিশ। এরপর সাদা চাদর দিয়ে পর্দা টাঙিয়ে দেয় এবং তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র কর্মীদের প্রতিবাদ ও স্লোগানের কারণে সামান্য বাধা সত্ত্বেও, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুককে শান্তিপূর্ণভাবে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণকারী চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হবে বলে কেন্দ্র হাইকোর্টকে জানানোর ২ দিন পর যন্তর মন্তর থেকে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হল। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই লাদাখি আন্দোলনকর্মীর জন্য জরুরি চিকিৎসার দাবিতে করা এক আবেদনের শুনানি চলাকালে এই বক্তব্য পেশ করা হয়।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত এক ডিভিশন বেঞ্চ ‘যে কোনও নাগরিকের জীবন মূল্যবান’ এই পর্যবেক্ষণ রেখে সরকারকে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের দৈনিক ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। বেঞ্চ জানিয়েছিল, ‘আমরা চাই সরকারি ডাক্তাররা যেন সোনম ওয়াংচুকের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং ডাক্তারদের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে যদি কোনও ওষুধের প্রয়োজন হয়, তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্রতিটি জীবনই মূল্যবান।’
NEET পরীক্ষার অনিয়মের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ওয়াংচুকের শুরু করা অনশন শনিবার ২১তম দিনে পদার্পন করত। জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্স-এ একটা ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেই ভিডিওতে দেখা গেছে, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিক্ষোভস্থলের মঞ্চের দিকে উর্দিধারী ও সাধারণ পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে যাওয়ার সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ‘জনতী ককরোচ পার্টি’র সংসদ অভিমুখে পরিকল্পিত পদযাত্রার একদিন আগেই পুলিশ ওয়াংচুককে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিল। তিনি নাগরিকদের বিপুল সংখ্যায় এই পদযাত্রায় তাঁর সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
❤ Support Us








