Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৬, ২০২৫

তামিলনাড়ুতে সিপিএম-এর পথেই বিজেপি! আন্তঃজাত প্রেমিক-প্রেমিকার বিবাহের জন্য উন্মুক্ত পার্টি অফিস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তামিলনাড়ুতে সিপিএম-এর পথেই বিজেপি! আন্তঃজাত প্রেমিক-প্রেমিকার বিবাহের জন্য উন্মুক্ত পার্টি অফিস

তামিলনাড়ুর মাটি ফের সাক্ষী থাকল এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের— ‘অনার কিলিং’-এর বিরুদ্ধে এ বার একসঙ্গে পথে নামল সিপিএম ও বিজেপি। জাতপাতের ভেদরেখা মুছে, সমাজের রক্তাক্ত চেতনায় হাত রাখল দুই মেরুর দুই রাজনৈতিক দল। সিপিএম ঘোষণা করল, প্রেমিক-প্রেমিকা যদি জাতপাতের বাধা ডিঙিয়ে বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হতে চান, কিন্তু পরিবার তাঁদের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তাদের জন্য খুলে যাবে পার্টি অফিসের দরজা। বামেদের এ ঘোষণার পর বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি কে. আন্নামালাইও জানালেন, তাঁরাও সে পথেই হাঁটছেন।

এই দুই ঘোষণাই এসেছে মর্মান্তিক এক ঘটনার পর। তিরুনেলভেলি জেলায় একটি সে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে। উচ্চবর্ণের তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে খুন হতে হয়েছে এক দলিত ইঞ্জিনিয়ারকে। অভিযোগ, ওই তরুণী যে হাসপাতালে কাজ করেন, সেখানেই তাঁকে খুন করেছে তরুণীর ভাই। সোমবার সন্ধ্যায় সিপিএমের তামিলনাড়ু রাজ্য সম্পাদক পি. শানমুগাম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লেখেন, ‘সম্মানরক্ষার নামে হত্যা এখনো বাস্তব। জাতপাতের দমন-পীড়ন আজও রয়ে গিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে যারা ভালোবাসার ভিত্তিতে, বিশেষত আন্তঃজাত বিয়ে করতে চায়, তাঁদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। তাই আমাদের দলের পার্টি অফিসগুলিকে আশ্রয়স্থল হিসেবে খুলে দিচ্ছি। আমরা তাঁদের আইনি সহায়তাও করব।’ বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই উদাহরণ তৈরি করে ফেলল বামদল। পুদুক্কোট্টাই জেলায় সিপিএম অফিসেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রগদীশ্বরান ও ঐশ্বর্য নামের এক যুগল। তবে এতে হাঙ্গামাও কম হয়নি। শানমুগাম জানিয়েছেন, ‘তিরুনেলভেলিতে এক দম্পতির বিয়ে হওয়ার পর কনের আত্মীয়রা পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবুও আমরা পিছু হটছি না।’

সিপিএম-এর ঘোষণা ঘিরেই শুরু হল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়। সিপিএমের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির আন্নামালাই বলেন, ‘জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রেম ও বৈবাহিক সম্পর্ককে সম্মান করা দরকার। সিপিএম ঠিক করেছে, তাঁদের অফিস খুলে দিয়ে, আমরাও তাই করব।’ তবে আন্নামালাই এখানে থেমে থাকেননি। তাঁর দাবি, প্রতীকী পদক্ষেপে থেমে থাকলে চলবে না, দরকার শক্তিশালী আইন। তিনি বলেন, ‘অনার কিলিং থামাতে হলে চাই আলাদা আইন। বর্তমানে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এ ধরনের অপরাধকে আওতাভুক্ত করে বটে, কিন্তু ‘সম্মানহত্যা’র মতো সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলে চাই আলাদা ও কড়া শাস্তির বিধান। আমরা ডিএমকে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এই বিষয়ে দ্রুত আইন আনুক।’

এদিকে, এরকম সংবেদনশীল বিষয়ে ডিএমকে’র অবস্থান বেশ অস্বস্তিকর। কারণ, দল হিসেবে ডিএমকে পেরিয়ার-ঘরানার যুক্তিবাদী, জাতপাত বিরোধী রাজনীতি করলেও, এখনো পর্যন্ত ‘অনার কিলিং’-এর বিরুদ্ধে কোনো পৃথক আইন আনার পথে হাঁটেনি। অথচ এ দাবি বহুদিন ধরেই জানিয়ে আসছে অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলি। সম্প্রতি বিদুতলাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)-র নেতা থোল থিরুমাভালাভান নিহত তরুণ কাবিনের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সাংবাদিকদের জানান, ‘ওই পরিবারটি এখনো একই গ্রামে রয়েছে এবং ভয় পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছি।’ পাশাপাশি তাঁর দলও আলাদা করে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইন আনার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়েও মুখ খুলেছেন সিপিএম নেতা শানমুগাম। তাঁর দাবি, ‘২০১৫ সালেই আমাদের বিধায়ক এ. সৌন্দরারাজন একটি বিল এনেছিলেন ‘অনার কিলিং’ এর বিরুদ্ধে , কিন্তু তা পাস হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমি, সিপিআই নেতা আর. মুত্থারাসান ও থিরুমাভলাভন ৩০ মিনিট ধরে আলোচনা করেছি। মনে হয়েছে, তিনি সদর্থকভাবে ব্যবপারটি নিয়েছেন। আগামী অধিবেশনেই আইন আনা উচিত।’

সবচেয়ে চমকে দেওয়া তথ্য এসেছে শানমুগামের মুখেই, তিনি জানিয়েছেন, ‘শুধুমাত্র তিরুনেলভেলি জেলায় গত এক বছরে ২৪০টি এ ধরনের হত্যা হয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন জনসমর্থন আছে, সরকারকে এ সুযোগ কাজে লাগাতেই হবে।’ তবে, দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এই মুহূর্তে ‘ভালোবাসা’ এক রাজনৈতিক হাতিয়ার। জাতপাতের ঊর্ধ্বে গিয়ে সম্পর্ক বাঁচাতে পথে নামছেন রাজনীতিকরা, খোলা হচ্ছে পার্টি অফিস, আর্জি জানানো হচ্ছে আলাদা আইনের। কোথাও যেন রাজনীতির আঙিনায় একটু আশার আলো— ভালোবাসা যেখানে হাত ধরে হাঁটছে প্রতিরোধের রাজনীতির সঙ্গে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!