Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

শহরজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ! সবুজ গালিচায় ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের রাজকীয় আপ্যায়নে প্রস্তুত যুবভারতী

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শহরজুড়ে ফুটবল উন্মাদনা ! সবুজ গালিচায় ভিনিসিয়াস-রাফিনহাদের রাজকীয় আপ্যায়নে প্রস্তুত যুবভারতী

শহরজুড়ে ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচের হোর্ডিং, ব্যানার ও এলইডি বোর্ড। যুবভারতীর সবুজ গালিচাও প্রস্তুত বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাদের স্বাগত জানাতে। সাম্বার ছন্দে পা মেলাতে ইতিমধ্যেই উৎসবের আবহ কলকাতায়। ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, এনড্রিক, এস্তেভাও, ব্রুনো গুইমারেজ, মার্কুইনোসদের ভারত সফর ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। আর অতিথিদের আপ্যায়নে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্যও চলছে জোরকদমে প্রস্তুতি।

নবরূপে সেজে উঠছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। স্টেডিয়ামের দেওয়ালে পড়েছে নতুন রঙের প্রলেপ। প্রথমবারের মতো গ্যালারির প্রতিটি আসনে থাকছে নির্দিষ্ট নম্বর। ফলে আগের মতো শুধু জোনভিত্তিক নয়, এবার দর্শকরা নির্দিষ্ট আসনের টিকিট কাটতে পারবেন। দর্শকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো করতে নতুন করে সাজানো হয়েছে র‌্যাম্প ও শৌচাগার। গ্যালারির লবিতে থাকছে ফুড স্টলও। স্টেডিয়ামজুড়ে গেরুয়া ও হলুদ রঙের ছোঁয়া। পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে মাঠের ঘাসের। ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা নিজেরাও মাঠের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

শুধু মূল মাঠই নয়, যুবভারতীর পাশের অনুশীলন মাঠগুলিকেও আন্তর্জাতিক মানে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ব্রাজিল দলের সেখানে অনুশীলন করার সম্ভাবনা না থাকলেও, শহরে আসার পর উরুগুয়ে দল ওই মাঠগুলিতে অনুশীলন করতে পারে। তাই সেগুলিরও পরিচর্যায় কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। ভিভিআইপি গেটের বাইরে রাস্তার উপর প্রায় ৪০ ফুটের চ্যানেলিয়াম লেটারে লেখা হচ্ছে ‘বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন’। ভিভিআইপি গেটের বাইরের বিবেকানন্দের মূর্তি-সহ গোটা স্টেডিয়ামেই চলছে রঙের কাজ। প্রবেশদ্বারের উপরে বসানো হয়েছে বিশাল অশোক স্তম্ভ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আবহ তৈরি করতে যুবভারতীকে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে।

যুবভারতীর গণ্ডি ছাড়িয়ে সাজছে কলকাতাও। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের ম্যাচের প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। চাঁদনিচক, মা ফ্লাইওভার, ট্রায়াঙ্গুলার পার্ক, কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা, সাউথ সিটি, টালিগঞ্জ-করুণাময়ী, কাঁকুড়গাছি, বিজন সেতু-সহ একাধিক জায়গায় এলইডি বোর্ড ও বিশাল ব্যানারে চোখে পড়ছে দুই ম্যাচের বিজ্ঞাপন। কলকাতার বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও চলছে জোরকদমে প্রচার। শহরের বাইরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তেও একই ছবি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর কলকাতায় পা রাখার কথা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। বিমানবন্দর থেকে ভিনিসিয়াস-সহ দলের তারকাদের সরাসরি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। পরের দিন দুপুরে হোটেল থেকেই সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে যুবভারতীতে অনুশীলনে নামার কথা ব্রাজিল দলের।

রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ কিছুদিন আগেই জানিয়েছিলেন, পুজোর আগে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো দলের ম্যাচ দেখা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে উপহারের মতো। ব্রাজিল দলের সম্মানে রাজ্যের তরফে একটি নৈশভোজ আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এর আগে গত শুক্রবার বেঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ভারত। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। সেই ম্যাচের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে চলেছে কোচ খালিদ জামিলের দল। ৩ অক্টোবরের ম্যাচে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামার কথা ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, এনড্রিক, এস্তেভাও, ব্রুনো গুইমারেজ, মার্কুইনোস-সহ একাধিক তারকার।

ব্রাজিল দলের খাদ্যাভ্যাস ও ফিটনেস নিয়ে সতর্কতার কথা সর্বজনবিদিত। কলকাতা সফরেও সে নিয়মে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। দলের সঙ্গে থাকা বিশেষজ্ঞ শেফরাই খেলোয়াড়দের খাবারের দায়িত্ব সামলাবেন। ফুটবলারদের দৈনন্দিন চাহিদা ও ফিটনেসের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে পাঁচ দফার বিশেষ খাদ্যতালিকা। সকালের প্রাতরাশে থাকছে মূলত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। তেল ছাড়া ডিমের বিভিন্ন পদ, চিজ অমলেট, স্মোকড টার্কি এবং বিশেষভাবে তৈরি মুরগির পদ থাকছে মেনুতে। এর সঙ্গে থাকছে গাজরের কেক, ওয়াফেল, বিভিন্ন ধরনের কফি, হারবাল চা এবং তাজা ফলের রস। দুপুরের খাবারে টাটকা স্যালাডের পাশাপাশি থাকছে বেকড পর্ক হ্যাম, গ্রিলড চিকেন ব্রেস্ট এবং কাঁটাবিহীন রেড স্ন্যাপার। সঙ্গে থাকছে ভাত, পাস্তা এবং ব্রাজিলের জনপ্রিয় খাবার ‘ফারোফা’। ডেজার্টে থাকছে ব্রাজিলীয় মিষ্টি ‘ডুলস দে লেশে’।

অনুশীলনের ফাঁকে খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে বিশেষ ‘ট্রেনিং স্ন্যাক্স’। কর্ন কেক, হালকা স্যান্ডউইচ ও বিভিন্ন ধরনের ফল থাকছে সেই তালিকায়। আর ঘরের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে থাকছে ব্রাজিলের জনপ্রিয় ক্যান্ডি ‘ব্যানানিহা’ এবং মিষ্টি ‘প্যারোকুইনহা’। রাতের মেনুতেও থাকছে একাধিক পদ। রোস্টেড চিকেন থাই, গ্রিলড পর্ক এবং তেরিয়াকি সসে নরওয়ের স্যামনের সঙ্গে থাকবে ভাত, সবজি ও পাস্তা। ডেজার্টে থাকছে অ্যাপেল ক্রাম্বল। রাতে দেরিতে খিদে পেলেও থাকছে আলাদা ব্যবস্থা। পঞ্চম দফার এই মেনুতে থাকছে হালকা পাউরুটি, ওটস, ড্রাই ফ্রুটস, দই, অরেঞ্জ কেক ও ওয়াফেল।

৩ অক্টোবর ম্যাচ খেলার পরই ভিনিসিয়াস, রাফিনহাদের মতো তারকারা ক্লাবের ম্যাচ খেলতে সেদিন রাতেই কলকাতা ছাড়ার কথা। পরের দিন গোটা ব্রাজিল দল ফিরে যাবে। সব মিলিয়ে, মাঠের প্রস্তুতি থেকে শহরের সাজসজ্জা, নিরাপত্তা থেকে খাবারের আয়োজন — বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের স্বাগত জানাতে প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত কলকাতা। যুবভারতীর সবুজ গালিচায় সাম্বার ছন্দে ব্রাজিলের পা পড়ার অপেক্ষায় এখন গোটা শহর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!