Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ১৬, ২০২৬

ভোট ঘোষণার পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবদল। নন্দিনীর জায়গায় মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত, স্বরাষ্ট্রে সংঘমিত্রা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোট ঘোষণার পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব পদে রদবদল। নন্দিনীর জায়গায় মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত, স্বরাষ্ট্রে সংঘমিত্রা

রাজ্যে বিধানসভা ভোট ঘোষণার ৫ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল নন্দিনী চক্রবর্তীকে। দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজ এই দুই আইএএস অফিয়াসের করতে পারবেন না।

মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী সরিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে বসিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার বিকেলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে কমিশন। তার ঠিক ৫ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের দুই শীর্ষ আমলাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিল কমিশন। এর আগে নির্বাচন ঘোষণার পর কোনও মুখ্যসচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নজির নেই।

ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে জারি হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। ভোট ঘোষণা থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত সাধারণত জাতীয় নির্বাচন কমিশনের হাতে বিশেষ ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে। রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক, পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। অতীতেও বিভিন্ন পুলিশকর্তা এবং সরকারি আধিকারিক বদল করেছে কমিশন। নির্বাচনের আগে পুলিশ সুপার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বদলেরও নজির রয়েছে। এমনকি স্বরাষ্ট্রসচিব বদলের উদাহরণও আছে। তবে একেবারে মুখ্যসচিব পর্যায়ে পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে কবে হয়েছে, সেটা কারওই স্মরণে আসছে না।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্যকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ওই সময় কমিশনের অভিযোগ ছিল, অত্রি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এমন কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন, যা কমিশনের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ মোটেই নয়। পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকেও ওই বছর লোকসভা ভোটের সময়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। রাজীব তখন ছিলেন সিআইডি-র অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে।

নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে যাঁকে মুখ্যসচিব করে এনেছে কমিশন, সেই দুষ্মন্ত ১৯৯৩ সালের ব্যাচের আইএএস। আগে রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। তাছাড়া তিনি বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে সেচ দফতরও সামলেছেন অতীতে। এ বার নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দুষ্মন্তকেই রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব করল কমিশন।

জগদীশ প্রসাদ মীনার পরিবর্তে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রা ঘোষকে। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এত দিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন। এই দফতরে তিনি রাজ্যের নারী-শিশু কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রশাসনিক দায়িত্বভার সামলাতেন। রাজ্যে ভোট ঘোষণা হতেই জগদীশকে সরিয়ে তাঁকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে নিয়ে এল কমিশন।

বদল হয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্যের ডিজি পদেও।  রাজ্য ডিজি পীযুষ পান্ডের জায়গায় নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। একই সঙ্গে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের বদলে নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অজয় নন্দ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন পুলিশ কমিশনার ও ডিজি সোমবার দুপুর ৩টায় দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশন রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় হবে ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২ আসনে। গণনা হবে আগামী ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গে এত কম দফায় ভোটের নজিরও সাম্প্রতিক অতীতে নেই। বিধানসভা-সহ গত কয়েকটি নির্বাচনে রাজ্যে ছয় থেকে সাত দফায় ভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায়। এবারের নির্বাচনে সবদিকেই নজির সৃষ্টি করতে চাইছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!