Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মার্চ ৬, ২০২৫

ওবিসি শংসাপত্র বাতিল মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব কলকাতা হাইকোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ওবিসি শংসাপত্র বাতিল মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব কলকাতা হাইকোর্টের

গত মে মাসে ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট ৷ কিন্তু তারপরও সে মোতাবেক কাজ করে নি পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই মামলায় এবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট।

ওবিসি শংসাপত্র বাতিল মামলায় আবার আদালতের ভৎসনার মুখে পড়ল রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশের ৯ মাস পরেও কেন প্রায় ১২ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করা কার্যকর হয়নি, এই প্রশ্নের জবাব চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ১২ মার্চ এ মামলার পরবর্তী শুনানি, সেদিন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছেন।

গত বছর ২২ মে রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া সব ওবিসি সংশাপত্র বাতিল করতে হবে। কারণ ২০১০ সালের পর থেকে ওবিসি শংসাপত্র প্রাপকদের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে, তা ১৯৯৩ সালের ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস আইনের পরিপন্থী। এক্ষেত্রে ওবিসি চিহ্নিত করার পদ্ধতি মানা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উপেক্ষা করে নিজেদের ইচ্ছা মতো সার্টিফিকেট বিলি করেছে রাজ্য সরকার। ওই সব সার্টিফিকেট ভবিষ্যতে কোথাও ব্যবহার করা যাবে না। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে ওই সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরিতে নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের চাকরি থাকবে । হাইকোর্টের ওই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। শীর্ষ আদালতে বিচারপতি বিআর গবই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। মূল মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও ৬ জানুয়ারি দায়ের হওয়া একটি মামলা খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল মামলা নিয়ে হাইকোর্ট যা রায় দিয়েছে তাতে হস্তক্ষেপ করা হবে না। অর্থাৎ এ পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর করতে বাধ্য রাজ্য সরকার। কিন্তু তা করা হচ্ছে না, ইচ্ছাকৃতভাবে আদেশ অমান্য করছে তৃণমূল সরকার। অনেক জায়গায় নতুন করে ওই ‘বাতিল’ সার্টিফিকেটের ব্যবহারও করা হচ্ছে বলে হাইকোর্টে অভিযোগ মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবি বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই বিচারপতিরা রাজ্যের কাছে ন্যায়ালয়ের নির্দেশ অমান্য করবার কারণ জানতে চেয়েছেন বিচারপতি।

বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন কারবার মমতা ব্যানার্জির সরকার আদালতের রায় অবমাননা করছে। মাসদুয়েক আগে আদালতের নির্দেশের পরেও যোগ্য প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ করা হয়নি। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা কমিশনারকে আদালতে তলব করেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের একটি মামলায় আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে রাজ্য। সেখানেও অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পরেও বাম জমানায় প্যানেলভুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!