- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৯, ২০২৫
প্রশ্ন ‘ভুল’-এর মীমাংসা না-হতেই প্রাথমিকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কেন ! হাইকোর্টের দ্বারস্থ অনুত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা
টেট পরীক্ষায় প্রশ্ন ভুল ছিল কি না, সে বিতর্কের নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। অথচ তার মধ্যেই রাজ্যের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩,৪২১টি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। আর তাতেই ফুঁসে উঠলেন ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের একাংশ। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে নয়া নিয়োগবিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি ওম নারায়ণ রাই মামলা গ্রহণ করে শুনানির অনুমতি দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহেই হতে পারে মামলার শুনানি।
চাকরিপ্রার্থীদের তরফে এদিন আদালতে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম দাবি করেছেন, ২০১৭ এবং ২০২২ সালের টেট-এ প্রায় ২০টি প্রশ্ন ছিল বিভ্রান্তিকর বা সম্পূর্ণ ভুল। সে প্রশ্নগুলিতে নম্বর পেলে বহু পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে যেতেন। ফলে, ওই মামলার চূড়ান্ত রায় আসার আগে নতুন নিয়োগ শুরু হলে, এই পরীক্ষার্থীরা আবেদনই করতে পারবেন না। তাঁর কথায়, ‘ভুল প্রশ্নের দায় পরীক্ষার্থীদের নয়। অথচ ফলাফলের দায় চাপিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।’ প্রসঙ্গত, ওই ‘ভুল প্রশ্ন’ সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগেই একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে হাইকোর্ট। কমিটির কাজ এখনো শেষ হয়নি। চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন, যখন নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণকারী পরীক্ষাই বিতর্কের কেন্দ্রে, তখন আদালতের রায় না-আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো না কেন? নিয়োগ নিয়ে একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে সম্ভাব্য কয়েক হাজার যোগ্য পরীক্ষার্থী চাকরির সুযোগ হারাতে পারেন। এদিনে নতুন নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহেই। এমত অবস্থায় আদালতের তরফে কোনো স্থগিতাদেশ আসবে কি না, সেটাই এখন দেখার। মামলাকারীদের দাবি, ‘নিয়োগ যদি পরে হয়, কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। কিন্তু এখন শুরু হলে, অনেকেই আর ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না — এটি চূড়ান্ত অবিচার।’
অন্যদিকে, একই দিনে, অন্য একটি দাবিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ধর্মতলা। ‘সমগ্র শিক্ষা বাঁচাও মঞ্চ’-এর ব্যানারে ১২টি পার্শ্ব শিক্ষক সংগঠন এ দিন ‘নবান্ন অভিযান’-এ পথে নামে। শিয়ালদহ থেকে মিছিল শুরু হলেও ধর্মতলায় পুলিশি ব্যারিকেডে আটকে দেওয়া হয় প্রতিবাদীদের। এলিট সিনেমা হল সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশ। সেখানেই ধস্তাধস্তি, উত্তেজনা, শেষে রাস্তায় বসেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের পর থেকে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি হয়নি। এ বছর আগস্ট মাসে বিকাশ ভবন থেকে ফাইল পাঠানো হলেও, নবান্নে গিয়ে তা থেমে রয়েছে। এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে চাই, ৯১ হাজার পার্শ্ব শিক্ষকের সংসার চলছে না। এখন যদি ব্যবস্থা না-নেন, তাহলে আন্দোলনের পথ আরো কঠোর হবে।’ তাঁদের আরো দাবি, অবিলম্বে শূন্যপদ পূরণ, ইপিএফ চালু এবং পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
❤ Support Us








