Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২১, ২০২৫

আবার উত্তপ্ত মণিপুর, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত কুকি সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আবার উত্তপ্ত মণিপুর, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত কুকি সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মণিপুর। দক্ষিণ মণিপুরের চূড়াচাঁদপুর জেলার লাংচিয়াংমানবি নামে এক গ্রামে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ কুকিদের লাংচিয়াংমানবির গ্রাম প্রধানের স্ত্রী নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দোষীদের শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক।
বিষ্ণুপুর–চূড়াচাঁদপুর জেলার এক এলাকায় কুকি বিদ্রোহীদের গুলিতে ৬০ বছর বয়সী এক মেইতেই সম্প্রদায়ের কৃষক গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ ওঠে। মেইতেই সম্প্রদায়ের ওই কৃষক আহত হওয়ার পর পুলিশচিরুনি অভিযান শুরু করে। সেই সময় ‘‌ক্রস ফায়ারিং’–এ কুকি গ্রাম প্রধানের স্ত্রী নিহত হন। নিহতের নাম হৈখোলহিং হাওকিপ। পুলিশ জানিয়েছে যে কুকি বিদ্রোহীদের গুলিবর্ষণের জবাবে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে এই ঘটনা ঘটে।

এই হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার কুকি অধ্যুষিত চুরাচাঁদপুর এবং কাংপোকপি জেলায় কুকি সংগঠনগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডাকে। এবং ‘‌বাফার জোন’‌ জুড়ে শান্তি বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কুকিদের দাবি, গ্রাম প্রধানের স্ত্রীর হত্যার জন্য দায়ী নিরাপত্তা কর্মীদের চিহ্নিত করতে হবে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে এবং আইন অনুসারে শাস্তি দিতে হবে। এই দাবি নিয়ে কুকি সংগঠনগুলির আদিবাসী উপজাতি নেতাদের ফোরাম রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে।

মণিপুরে আদিবাসীদের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংগঠন ইন্ডিজিনাস ট্রাইবাল লিডারস ফোরাম (আইটিএলএফ) জানিয়েছে, হৈখোলহিং হাওকিপ গ্রাম প্রধানের স্ত্রী ছিলেন না। তিনি নিজেই লাংচিয়াংমানবি গ্রামে কুকি–জো সম্প্রদায়ের প্রধান ছিলেন। আইটিএলএফ–এর বক্তব্য, হাওকিপের অপরাধ, তিনি কুকি–জো সম্প্রদায়ের সদস্য। তারা আরও বলেছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কুকি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের জাতিগত নির্মূলের পদ্ধতিগত একটা কৌশল। নিরাপত্তা বাহিনীকে এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সরাসরি দায়ী করছে আইটিএলএফ।

এদিকে, মণিপুরে বিভিন্ন নিষিদ্ধ সংগঠনের ৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। ইম্ফল পশ্চিম জেলা, টেংনোপাল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।
মণিপুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইম্ফল পশ্চিম জেলার ওয়াঙ্গোই বাজার থেকে নিষিদ্ধ পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তেংনোপাল জেলার ভারত–মায়ানমার সীমান্তের কাছে পিলার ৮৭–এর পাশের এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (‌কোইরং)‌ এবং নিষিদ্ধ প্রেপাকের (প্রো) একজন করে সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কাকচিং জেলার সেকমাইজিং খুনো এলাকা থেকে নিষিদ্ধ কেসিপি–র (পিডব্লিউজি) একজন সক্রিয় সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপত্যকা এলাকায় জুলুমবাজি করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল।

এছাড়া, ইম্ফল পূর্ব জেলার ফাকনুং থংখং থেকে নিষিদ্ধ কেসিপি–র (পিএসসি) এক মহিলা সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জোর করে চাঁদা তোলার কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিষ্ণুপুর জেলার কোয়াক্তা তেরাখংশাংবি বাজার থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন প্রেপাকের আর এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বাসভবন থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। ২ বছর আগে জাতিগত সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী মণিপুরে চিরুনি তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। ‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!