Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • ডিসেম্বর ১৪, ২০২২

কেম্ব্রিজ অভিধানে নারী পুরুষের সংজ্ঞা বদল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কেম্ব্রিজ অভিধানে নারী পুরুষের সংজ্ঞা বদল

নারী ও পুরুষ দুটি পৃথক লিঙ্গ পরিচয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে কেম্ব্রিজ অভিধানে। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয়েছে আলোড়ন। নেটিজেনদের অনেকেই এই নতুন সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

কেম্ব্রিজ ডিকশনারি তাদের সম্প্রতিক সংস্করণে, নারী পুরুষের চিরাচরিত সংজ্ঞার পাশাপাশি এমন দুটি সংজ্ঞা রেখেছে যা রূপান্তরকামীদেরও এই তালিকাভুক্ত করেছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন প্রাপ্ত বয়স্ক, জন্ম পরিচিতির বাইরে নিজের পছন্দে লিঙ্গ পরিচিতি লিখতে পারবে। অর্থাৎ একজন  নারী হিসেবে যদি জন্মান, অথচ দৈহিক বৈশিষ্ট অনুযায়ী  পুরুষের মত জীবনযাপনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তবে কেম্ব্রিজ ডিকশনারিতে তিনিও পুরুষ রূপে পরিগণিত হবেন। আর নারী হবেন সেই প্রাপ্ত বয়স্ক  ব্যক্তিও যিনি জন্মগত ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত পুরুষ হওয়ার পরেও নারীর মত জীবন যাপনকে বেছে নেন ।


কেম্ব্রিজ ডিকশনারি প্রদত্ত এই সংজ্ঞাকে অনেকেই প্রগতিশীল বললেও বিপক্ষেও মতামত প্রচুর। এই সংজ্ঞা সমাজের প্রচলিত কাঠামো ও পারিবারিক সম্পর্কের বিন্যাসকে নষ্ট করতে পারে বলে মত সমাজতত্ত্ববিদদের একাংশের । ম্যানহাটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক  ক্রিস্টোফার রুফো টুইট করে সংজ্ঞার মধ্যে ‘শী’ র পরিবর্তে ‘দে’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, সংজ্ঞার বিশ্লেষণে সমস্যা আছে। অন্যদিকে মার্কিন লেখিকা ম্যারি রুক মন্তব্য করে বলেছেন, এই ধরণের সংজ্ঞার ব্যবহারে বিশ্ব সভ্যতা থেকে মেয়েদের মুছে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

রূপান্তরকামী মানুষদের কাছে এই সংজ্ঞা তাদের জীবনে কোনো নতুন বার্তা বহন করে আনবে কিনা তা কেউ জানে না।তারপরেও এই সংজ্ঞাকে ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ হিসেবেই দেখতে চাইছেন তারা।

প্রসঙ্গত, কাতার বিশ্বকাপের মতো বিশাল মঞ্চে যখন খেলোয়াড়রা ওয়ান লাভ আর্ম ব্যান্ড পরে রূপান্তরকামীদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।প্রতিবাদ জানাচ্ছে সমস্ত বৈষম্যের বিরুদ্ধে , সেখানে নর নারীর  নতুন সংজ্ঞা নিয়ে রক্ষণশীল বুদ্ধিজীবীদের একাংশ কটাক্ষ এবং নেতিবাচক সমালোচনা করছেন। একে সভ্যতার পশ্চাৎমুখীতা চিন্তাধারার প্রকাশ বলে  মনে করছেন রূপান্তরকামী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা মানবাধিকার কর্মীরা।


❤ Support Us
error: Content is protected !!