Advertisement
  • স | হ | জ | পা | ঠ
  • আগস্ট ১১, ২০২৬

তাপপ্রবাহে উধাও ঘুম ? পরিবেশ সংকটের কথা মানল কেন্দ্র, জলবায়ু-মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তাপপ্রবাহে উধাও ঘুম ? পরিবেশ সংকটের কথা মানল কেন্দ্র, জলবায়ু-মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে জাতীয় পরিকল্পনা

তাপমাত্রার সঙ্গে ঘুমেরও যে যোগ রয়েছেতা এ বার সরকারি ভাবেই স্বীকার করল কেন্দ্র। প্রবল গরমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাতের ঘুম ব্যাহত হচ্ছে কি নাবিশেষত প্রবীণশিশুরোদে-বাইরে কাজ করা শ্রমিকশীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা অন্য কোনও শীতলীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ যাঁদের নেইতাঁদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি কি না— রাজ্যসভায় কংগ্রেস সভাপতি তথা বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টি মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

মঙ্গলবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব জানানজলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা চালু করেছে কেন্দ্র। সে পরিকল্পনায় তাপমাত্রা-সহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ মানুষের ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন’-এর আওতায় ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ’ বাস্তবায়ন করছে সরকার। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কমিউনিকেবল ডিজিজেস’-এর মাধ্যমে এ কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

সংসদে খড়্গের প্রশ্ন ছিলসাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা দেওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে রাতে মানুষের ঘুমের সময় কমছে কি না। বিশেষ করে প্রবীণশিশুবাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং যাঁদের ঘর বা কর্মস্থলে ঠান্ডা থাকার কোনো ব্যবস্থা নেইতাঁদের উপর এর প্রভাব কতটা পড়ছেতা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে যাদব বলেনপরিবেশগত কারণগুলির প্রভাব ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে আরও বেশি হতে পারে। তাঁর কথায়প্রবীণশিশুবাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং শীতলীকরণ ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের উপর এই ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব তুলনামূলক ভাবে বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাপপ্রবাহের মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তাপজনিত অসুস্থতা কী ভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং আক্রান্ত হলে কী ভাবে তার মোকাবিলা করতে হবেসে সংক্রান্ত নির্দেশিকাও দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়েও বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রতাপরাও যাদব। ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ’-এর আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করা হয়েছে। রাজ্য  জেলা স্তরের নোডাল আধিকারিকচিকিৎসকপ্যারামেডিক্যাল কর্মী এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মহিলাশিশু এবং প্রবীণদের মতো জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রশিক্ষণ নয়সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও প্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি কেন্দ্রের।  তীব্র গরমের ফলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারেঘুমের উপর তার কী প্রভাব পড়েএসমস্ত বিষয় তুলে ধরে তথ্যশিক্ষা ও যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রচারসামগ্রী তৈরি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হয়েছে পৃথক উপকরণও।

স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও মজবুত করার ক্ষেত্রেও রাজ্যগুলিকে সহায়তা করা হয় বলে জানায় কেন্দ্র। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের আওতায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি তাদের প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন প্ল্যান’-এ যে প্রস্তাব দেয়তার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সে সহায়তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট নিয়ম এবং অর্থের প্রাপ্যতার উপর।

এদিকেপরিবেশ রক্ষায় গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন’-এর অগ্রগতির হিসাবও লোকসভায় পেশ করেছে কেন্দ্র। সরকারের দাবি২০১৫-১৬ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত দেশের ১৭টি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১.৮৪ লক্ষ হেক্টরেরও বেশি জমি পরিবেশগত ভাবে পুনরুদ্ধারের আওতায় আনা হয়েছে।  লোকসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এ পর্যন্ত সাতটি রাজ্যকে গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন’-এর অনুমোদিত কাজের জন্য মোট ৫৭.০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সে তালিকায় রয়েছে ছত্তীগঢড়, হরিয়ানাকেরালা, মধ্যপ্রদেশমণিপুরসিকিম এবং উত্তরপ্রদেশ।

গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন হলো কেন্দ্রের ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান অন ক্লাইমেট চেঞ্জ’-এর অধীনে থাকা ৯টি মিশনের অন্যতম। ক্ষয়প্রাপ্ত বনাঞ্চল  বনবহির্ভূত জমিকে পুনরুজ্জীবিত করাই এ মিশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘গ্রিন ইন্ডিয়া মিশন’-এর অধীনে বৃক্ষরোপণ এবং তার রক্ষণাবেক্ষণের কাজ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটি’, ‘ভিলেজ ফরেস্ট কমিটি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন। অনুমোদিত বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা মেনেই কাজগুলি বাস্তবায়ন করা হয়।

শহরাঞ্চলেও সবুজের পরিমাণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রক। নগর বন যোজনা’-র আওতায় ২০২০-২১ থেকে ২০২৬-২৭ সালের মধ্যে ৬০০টি নগর বন’ এবং ৪০০টি নগর বাটিকা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবিশহরের মধ্যে এই ধরনের সবুজ পরিসর তৈরি হলে শুধু গাছপালার সংখ্যা বাড়বে নাতৈরি হবে নতুন পরিবেশগত সম্পদও। যার ফলে শহরের বায়ুর গুণমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জলবায়ু বা মাইক্রো-ক্লাইমেট’-এর উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!