- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ২৭, ২০২৩
কলকাতায় মণিপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল, নেতৃত্বে সায়নী, রাজ্যে ৩ দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করল তৃণমূল
২৭ এবং ২৮ এবং ৩০ জুলাই , মণিপুরকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি তৃণমূল কংগ্রেস ও তৃণমূল যুব কংগ্রেস। ৩০ জুলাই, কলকাতায় এই কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকবেন তৃণমূলের যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ। তৃণমূল সূত্রে খবর, ২৭, ২৮ এবং ৩০ জুলাই রাজ্যের সর্বত্র মণিপুরে দুই মহিলাকে ধর্ষণের পর নগ্ন করে রাজপথে হাঁটানোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে তৃণমূল ও তৃণমূল যুব।
২৭ এবং ২৮ জুলাই রাজ্যের প্রতি জেলার প্রতিটি ব্লকে যুব তৃণমূলের তরফে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাবে দলীয় নেতা-কর্মীরা। ৩০ জুলাই কলকাতায় মোমবাতি হাতে নিয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল বেরোবে, তার নেতৃত্বে থাকবেন সায়নী ঘোষ। মিছিলের পর হবে প্রতিবাদ সভাও।
যুব তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, বিজেপি শাসিত মণিপুরে তিন মাস ধরে যে অশান্তি চলছে তার প্রতিবাদেই এই মিছিল হবে। উত্তর-পূর্বের ওই রাজ্যে জাতিগত হিংসার পাশাপাশি মহিলাদের উপর ধারাবাহিক অত্যাচার চলছে । বিজেপি সরকারের ব্যর্থতা এবং এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
বুধবারেও মণিপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে দক্ষিণ কলকাতায় মিছিল হয়েছে। মহিলা তৃণমূলের তরফে সেই মিছিল হয় গড়িয়াহাট থেকে গোলপার্ক পর্যন্ত। তার পর সেখানেই অবস্থানে বসেছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। নেতৃত্বে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মিছিলে হেঁটেছেন বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, মহিলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়দর্শিনী হাকিম প্রমুখ।
আমরা জানি, মণিপুর গত ৩ মে ২০২৩, থেকে জাতিগত হিংসার আগুনে চলছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার থেকেও সেই হিংসা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে অশান্তির সূত্রপাত জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ বা এটিএসইউএম-এর বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে। মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল মণিপুর হাই কোর্ট। তার পর থেকেই জনজাতি সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। ধারাবাহিক হিংসায় এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসেবে দেড়শোর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। ঘরছাড়া রয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার। যদিও অসমর্থিত সূত্রে মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি।
মণিপুরের হিংসা শুরুর পরের দিন অর্থাৎ ৪ মে, ২০২৩, দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনার একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। যাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৌখিক ভাবে ঘটনার নিন্দা করেছেন। সঙ্গে রাজস্থান, ছত্তীশগড়-এর পর মণিপুরের নাম তিনি বলেছেন। নারী নির্যাতনে বাংলার নামও তিনি মুখে এনেছেন। বিরোধীরা ওই ভিডিয়োকাণ্ডের পর মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের পদত্যাগ দাবি করেছেন। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছেন।
মণিপুরের ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলগুলি একযোগে যখন বিজেপি সরকারের নিন্দায় সরব হয়েছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গে তার পাল্টা হিসাবে বিজেপি তুলে ধরেছে মালদহ ইস্যু। মালদহের বামনগোলাতেও দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনা উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সমালোচনায় নেমেছে বিজেপি। মালদহকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার শ্যামবাজারে দু’দিনের প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি, আজ যার সমাপ্তির দিন, আই এই অনুষ্ঠানে বিকেলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যাবেন। শ্যামবাজারে বিজেপির মহিলা মোর্চার সভাপতি ফাল্গুনী পাত্রের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যার স্লোগান ‘আমিও বাংলার মেয়ে, আমিও বাঁচতে চাই’। এই আবহেই আজ-কাল ও ৩০ জুলাই প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল ও তৃণমূল যুব।
❤ Support Us






