Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • জুলাই ৫, ২০২৫

দেশের বৃহত্তম মেডিক্যাল শিক্ষা কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস ! কোটি কোটি টাকার ঘুষ, অভিযুক্ত শীর্ষ সরকারি আধিকারিক, স্বঘোষিত ধর্মগুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশের বৃহত্তম মেডিক্যাল শিক্ষা কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস ! কোটি কোটি টাকার ঘুষ, অভিযুক্ত শীর্ষ সরকারি আধিকারিক, স্বঘোষিত ধর্মগুরু

শিক্ষা ক্ষেত্রে বৃহত্তম দূর্নীতি।  কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো মেডিক্যাল কলেজ কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস করলো।একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে আছে এর ডালপালা। কেলেঙ্কারিতে জড়িত রয়েছেন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, মধ্যস্থতাকারী, শীর্ষ শিক্ষাবিদ এবং এমনকি এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুও। একে ‘চিকিৎসা শিক্ষার অবক্ষয়’-এর চরম নির্দশন হিসাবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বহু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বে-আইনি ভাবে, ঘুষের নিয়ে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ছত্তিশগড়ের রায়পুর শহরের ‘শ্রী রাওয়তপুরা সরকার ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ’ থেকে। সিবিআই-এর তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সংস্থা স্বীকৃতি পেতে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকার ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। সিবিআই জানিয়েছে, ঘুষের পুরো অর্থ ‘হাওলা’ মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এরপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তে প্রাথমিকভাবে ৩ জন ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। তদন্ত যত এগিয়েছে, দেখা গেছে এর বিপুলতা, সম্ভবত এটিই স্বাধীন ভারতে সবচেয়ে বড়ো চিকিৎসা শিক্ষা কেলেঙ্কারি।

ঘটনার আরো একটি চাঞ্চল্যকর দিক হল ‘রাওয়তপুরা সরকার’, যিনি একজন স্বঘোষিত ধর্মগুরু -তাঁর নাম এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে যাওয়া।অভিযুক্ত ধর্মগুরুর আসল নাম রবিশঙ্কর মহারাজ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। বহু আইএএস, আইপিএস অফিসারের সঙ্গে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে। সমালোচকরা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ট্রাস্ট সরকারী প্রকল্প থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে একাধিক জমি দখল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমোদন না নিয়ে কার্যক্রম চলানো ইত্যাদি অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়াও, তাঁর আশ্রমে মহিলাদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র অনুযায়ী, সিবিআই-এর তদন্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জালিয়াত চক্রের ব্যাপক বিস্তারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাজস্থান, গুরগাঁও, ইন্দোর, ওয়ারাঙ্গল, বিশাখাপত্তনম থেকে শুরু করে, দেশের প্রায় ৪০টি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে ঘুষের মাধ্যমে স্বীকৃতি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। সিবিআই জানিয়েছে, ওইসব কলেজের পরিচালকরা প্রায় ৩ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিয়েছিলেন ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য। সিবিআই ইতিমধ্যে ইন্দোরের ইনডেক্স মেডিকেল কলেজ-এর নামও প্রকাশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে ভুয়ো শিক্ষক নিয়োগ, অনুপস্থিতি রেকর্ড তৈরি করা, এমনকি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার সনদও জালিয়াতি করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ।

সংস্থার কর্তৃপক্ষ তো বটেই, সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারাও এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মকর্তাদের দৌলতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনে বিভিন্ন সংস্থার হাতে চলে গিয়েছে। আগাম গোপন তথ্যপেয়ে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের পরিচালকরা নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েছেন। মূল অভিযুক্তের নাম উঠেছে মেডিকেল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড রেটিং বোর্ড-এর প্রাক্তন সদস্য জিতু লাল মীনার। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে তাঁকেই এই দুর্নীতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জেরার মুখে জিতু জানিয়েছেন, তিনি ঘুষের একটি অংশ ব্যবহার করে রাজস্থানে ৭৫ লাখ টাকার হনুমান মন্দির নির্মাণ করেছেন।

কেবল উত্তর-পশ্চিম, মধ্যভারত নয়, জালিয়াতির ছায়া দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও থাবা বসিয়েছে। বিশেষত, অন্ধ্রপ্রদেশের কদিরি, হায়দ্রাবাদ এবং বিশাখাপত্তনম-এ কয়েকজন মধ্যস্থতাকারী বিভিন্ন মেডিকেল কলেজকে সহায়তা করতেন বলে জানা গেছে। ওয়ারাঙ্গলের ফাদার কলম্বো ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস-এর মতো সুপরিচিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ। এক্ষেত্রে ঘুষের অর্থ সরাসরি ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল যাতে সেটিকে বৈধ বলে মনে হয়।

বিশাল এই কেলেঙ্কারীর খবর ছড়িয়ে পড়তেই চিকিৎসা শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোর নৈতিকতা ও শৃঙ্খলাকে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের জালিয়াতি কেবল প্রতিষ্ঠানের সততা নয়, দেশের ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মান নিয়েও সংশয়ের সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষের উপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এ পর্যন্ত সিবিআই একমাত্র অতুল তিওয়ারি নামের এক সংস্থা পরিচালককে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে, অনেকে আসন্ন গ্রেপ্তারের মুখে। সিবিআইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এ ব্যাপারে আরো তদন্ত প্রয়োজন। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না,তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!