- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুলাই ১৪, ২০২৫
‘দুর্ভাগ্যজনক! কিন্তু সরকারের ক্ষমতারও সীমা আছে’ — নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড রোখা প্রায় অসম্ভব, সুপ্রিমকোর্টে জানাল কেন্দ্র
কেরালার নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড রোখার সম্ভাবনা কার্যত নেই বলেই জানাল কেন্দ্র সরকার। ইয়েমেনে এক ব্যক্তিকে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত নিমিশার প্রাণদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ১৬ জুলাই, বুধবার। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে সোমবার কেন্দ্রের তরফে জানানো হল, সরকার তার পক্ষে যা যা করা সম্ভব, তা করেছে। এখন আর কিছু করার নেই। সুপ্রিম কোর্টে অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ভেঙ্কটরামানি বলেছেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু সরকারেরও একটা সীমা থাকে। সে সীমায় পৌঁছে গিয়েছি।‘ বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়, কোনো কূটনৈতিক বা আর্থিক চাপেই ইয়েমেন সরকার কিংবা নিহত ব্যক্তির পরিবার রাজি হচ্ছে না।
ইয়েমেনি আইনে ‘দিয়া’ বা রক্তমূল্য দিলে মৃত্যুদণ্ড রোখা সম্ভব। সেই অনুযায়ী নিহত ইয়েমেনি নাগরিক তালাল আবদো মেহদির পরিবারকে ১ মিলিয়ন ডলার, প্রায় ৮.৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবার সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ওরা বলছে, এটা সম্মানের প্রশ্ন। টাকা দিলেই যে মত বদলাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।’ আদালত জানতে চায়, সরকার কি এই রক্তমূল্যে কিছু আর্থিক সহায়তা বা কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ করতে পারে? অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়ে দেন, ‘এটা ব্যক্তিগত স্তরের ব্যাপার। সরকার এখানে কোনো আর্থিক সহায়তা করতে পারে না।’ কেন্দ্রের দাবি, তারা কূটনৈতিক স্তরে সবরকম চেষ্টা করেছে। ইয়েমেনের সরকারি আইনজীবী, এমনকি এক প্রভাবশালী শেখের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু ফল মেলেনি। সরকারের বক্তব্য, অপ্রকাশ্য সূত্রে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হতে পারে বলেও শোনা গিয়েছিল, কিন্তু তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ‘সেভ নিমিশা প্রিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকশন কাউন্সিল’-এর তরফে আদালতে জানানো হয়, তাঁরা রক্তমূল্যের অঙ্ক বাড়াতেও প্রস্তুত। এমনকি পরিবারের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভারত থেকে কাউকে পাঠানোরও অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সরকার জানায়, ‘আমরা আমাদের ক্ষমতা প্রয়োগের শেষ সীমা অবধি গিয়েছি। তার বাইরে কিছু করার নেই।’
২০০৮ সালে ইয়েমেনে কাজের খোঁজে পাড়ি দিয়েছিলেন কেরালার পালাক্কাদের বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়া। একাধিক হাসপাতালে নার্স হিসেবে কাজ করার পরে নিজে একটি ক্লিনিক খোলেন। ইয়েমেনি নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় নাগরিক তালাল মেহদিকে নিজের ‘পার্টনার’ হিসেবে বেছে নেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি তাঁকে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তাঁর পাসপোর্টও কেড়ে নেন। দেশে ফেরার জন্য মরিয়া নিমিশা ২০১৭ সালে মেহদিকে একটি চেতনানাশক ইনজেকশন দেন— উদ্দেশ্য ছিল, সাময়িক অচেতন অবস্থায় তাঁর পাসপোর্ট উদ্ধার করে পালানো। কিন্তু ভুল মাত্রায় ইনজেকশন দেওয়ায় মেহদির মৃত্যু হয়। গ্রেফতার হন নিমিশা। ইয়েমেনের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সেই রায় বহাল রাখে। রাষ্ট্রপতির সিলমোহর পড়ার পরে এখন কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা। ইয়েমেনি আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড রুখতে শেষ মুহূর্তে নিহতের পরিবার ‘ক্ষমা’ করতে পারে। তার জন্যই ‘দিয়া’র ব্যবস্থা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি। এরকম খবর আসতেই ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ। কিন্তু বাস্তব বলছে, বুধবারের মধ্যে যদি কোনো অলৌকিক পরিবর্তন না ঘটে, তবে মৃত্যু নিশ্চিত নিমিশার। মোদি সরকারের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আর কিছু করার নেই। যা করার ছিল, তা করা হয়ে গিয়েছে।’
❤ Support Us







