Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • ডিসেম্বর ৩, ২০২৫

পশ্চিমবঙ্গের ৩৫ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে চায় এনসিবিসি, সংসদে দাবি কেন্দ্র সরকারের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গের ৩৫ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে চায় এনসিবিসি, সংসদে দাবি কেন্দ্র সরকারের

ন্যাশনাল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। এমন তথ্যই এদিন সংসদে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। সংসদে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় ৪৬টি জনগোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল কি না এবং তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠী ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টে চলমান ওবিসি শংসাপত্র মামলার প্রেক্ষিতেও তিনি তথ্য চেয়েছিলেন। জবাবে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১১ সালে ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল। তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিবিসি পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দিতে পরামর্শ দিয়েছে।

রাজ্যের ওবিসি তালিকা নিয়ে মামলা এবং আদালতের রায়ের কথাও উল্লেখ করেছেন সাংসদ। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্ট প্রথম রায়ে নির্দেশ দেয়, ২০১০ সালের পর রাজ্যের তালিকায় যে ওবিসি সম্প্রদায় যুক্ত হয়েছে, তা বাতিল। সেই সঙ্গে ২০১০ সালের পর থেকে জারি করা সব ওবিসি শংসাপত্রও বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর আগে রাজ্যে ওবিসি হিসাবে ৬৬টি সম্প্রদায় স্বীকৃত ছিল। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত ভিত্তিতে সব জনগোষ্ঠীর সমীক্ষা করে নতুনভাবে ওবিসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে। হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর রাজ্য একটি সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। তবে ওই বিজ্ঞপ্তির বিরোধিতা করে মামলা হয় এবং ১৭ জুন হাইকোর্ট বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ জারি করে। রাজ্য উচ্চ আদালতের এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনোইতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ও তথ্যপ্রযুক্তি কোষাধ্যক্ষ অমিত মালভিয়া বলেন, ‘এনসিবিসি-এর পদক্ষেপ রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ধর্মভিত্তিক সম্প্রদায়কে ওবিসি কোটায় অন্তর্ভুক্ত করার নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করছে। প্রকৃতপক্ষে পিছিয়ে পড়া সংখ্যাগুরু সম্প্রদায় তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাংক রাজনীতি শেষ হয়েছে। মোদি সরকার বাস্তব সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করছে।’ এদিকে, তৃণমূলের দাবী ধর্মের ভিত্তিতে বাংলার নাগরিকদের ন্যায্য অধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নিতে চাইছে মোদি সরকার। বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, বাংলার ভোটব্যাংক রাজনীতির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে ওবিসি তালিকায় দেখা যাচ্ছে। এবার কেন্দ্রের পদক্ষেপ সে দিকটি পুনর্বিবেচনার সংকেত দিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!