- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- আগস্ট ২৮, ২০২৫
নাইজেরিয়ায় আবার জলবাহিত রোগের প্রকোপ। ২০০-এর বেশি সংক্রমিত, মৃত ৮
নাইজেরিয়ার জামফারা প্রদেশের বুক্কুইয়ুম জেলায় ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল মারণব্যাধি কলেরা। ইতিমধ্যেই অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই শতাধিক। একাধিক গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। নিরাপত্তাহীনতা ও চিকিৎসার অভাবে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গ্রামগুলির মধ্যে নাসারাওয়া-বুরকুল্লু, গুরুসু এবং আদাবকা অন্যতমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় অধিকাংশ রোগীকেই বাড়িতেই চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। জলবাহিত এই রোগকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য মহলে। গুরুসু গ্রামের প্রধান, মোহাম্মদ জিবচি জানিয়েছেন, ‘আমাদের গ্রামে ২১ জন কলেরায় হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হওয়াতেই এমন পরিণতি।’ শুধু গুরুসু নয়, আদাবকাতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ‘আমাদের গ্রামে ৫৩ জন আক্রান্ত। ওষুধ নেই, স্যালাইন নেই। সবচেয়ে বড়ো কথা, আমরা রোগীদের নিয়ে শহরের হাসপাতালে যেতে পারছি না। সন্ত্রাসবাদী ‘ডাকাত’রা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
উল্লেখ্য, জামফারা প্রদেশ গত কয়েক বছর ধরেই সশস্ত্র গোষ্ঠীদের তাণ্ডবের শিকার। অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি, এ প্রদেশের সাধারণ জীবনযাত্রাকে লাগাতার অস্থির করে তুলেছে। বারবার নিরাপত্তার দাবি তুলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তার উপর এবার কলেরার মতো রোগ হানা দেওয়ায় বিপদের মাত্রা দ্বিগুণ। এ পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়ার কেন্দ্র সরকারের কাছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ফেডারেল সংসদ সদস্য সুলেমান আবুবকর গুমি। তিনি বলেছেন, ‘এক মুহূর্ত দেরি না করে, এক্ষুণি ওই অঞ্চলে জরুরিভিত্তিতে স্বাস্থ্যদল পাঠানো হোক। স্থাপন করা হোক কলেরা চিকিৎসা কেন্দ্র। বিশেষত, শিশু ও মহিলাদের জন্য এখনই পদক্ষেপ না নিলে মৃত্যু মিছিল থামানো যাবে না।’
এদিকে, এ পর্যন্ত জামফারা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি বিবৃতি জারি করা হয়নি। স্বাস্থ্য দফতরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানাচ্ছেন, কলেরার জীবাণু দ্রুত ছড়াচ্ছে দূষিত জল ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের অভাবে। নাইজেরিয়ার বহু গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছয়নি। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চলমান সহিংসতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের জোগান, সচেতনতা কর্মসূচি এবং জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যথায়, প্রান্তিক এলাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে।
উল্লেখ্য, কলেরা একটি প্রাচীন ও প্রাণঘাতী জলবাহিত রোগ, যার ইতিহাস বিশ্বব্যাপী কয়েক লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও মহামারির সাক্ষী। ১৯ শতকে ভারত থেকে শুরু করে ইউরোপ, আফ্রিকা ও আমেরিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এই মারণব্যাধি, বিশেষ করে যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা দুর্বল ছিল সেখানে মহামারীর আকার নিয়েছিল। কলেরা রোগের জীবাণু দূষিত জল বা খাবারের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে এবং দ্রুত ডায়রিয়া ও জলশূন্যতা ঘটিয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। রোগ প্রতিরোধে বিগত এক-দেড় শতক ধরে নানান কর্মসূচী নিয়েছে বিশ্বের নানান দেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘কলেরা নির্মূল কর্মসূচি ২০২৩’ ঘোষণা করেছে, যার মূল স্তম্ভ ৩টি—বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রাপ্যতা, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এ রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কলেরা নির্মূলে এখনো সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ।
❤ Support Us







