- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১১, ২০২৫
‘ওদের কাছে প্রমাণ করতে হবে, আমি দেশের নাগরিক কি না!’ : কৃষ্ণনগরে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে সরসরি আক্রমণ মমতার
সোমবার, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনো ফর্মটি পূরণ করেননি। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরের সভামঞ্চ থেকে মমতা বলেন, ‘আমি এখনো ফর্ম পূরণ করিনি। কেন করিনি? আমি ৩ বার কেন্দ্র সরকারের মন্ত্রী ছিলাম, ৭ বার সংসদ সদস্য হয়েছি এবং আপনাদের আশীর্বাদে ৩ বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি। এখনও কি আমাকে প্রমাণ দিতে হবে যে আমি দেশের নাগরিক?’ এরপর তিনি শ্লেষভরা গলায় যোগ করেন, ‘এর চেয়ে নাকখত দেওয়া অনেক ভালো।’
তিনি সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘ওই দাঙ্গাবাজদের কাছে কি প্রমাণ দিতে হবে যে আমি দেশের নাগরিক? দেশ যখন স্বাধীন হয়েছিল, তখন তারা কোথায় ছিলেন? ইংরেজ শাসনকালেও তারা দাসত্ব করেছিলেন। আর আজকে কি তারা দেশকে চেনাচ্ছে?’ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তৃণমূল ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নয়, তবে নির্বাচনের দু-মাস আগে এই প্রক্রিয়াকে জোরে চালানোর তাড়াহুড়ো তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, সময় নিয়ে ‘এসআইআর’ করুন। এত তাড়াহুড়ো কেন? হোয়াই সো হাঙ্গরি?’
তৃণমূল সুপ্রিমো আরো অভিযোগ করেন, বিজেপি ভোটের আগে বাংলায় রাজনৈতিক দখল গড়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তৃণমূল তা বরদাস্ত করবে না। তিনি জানান, যাঁরা ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম ব্যবহার করেছেন, তাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হবে এবং হিয়ারিং থেকেই নাকি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হবে। ‘দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কারও নাম বাদ দিলে আমি ধর্না দিয়ে বসে থাকব। যতক্ষণ না নাম পুনঃস্থাপন হয়, ততক্ষণ ধর্না চলবে। বাংলায় কোনো ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না।’ মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তাঁর নিশানা থেকে বাদ যায় নি নির্বাচন কমিশনও। তিনি বলেন, ‘বিজেপি একটার পর একটা অভিযোগ করেছে, চিঠি জমা দিয়েছে। তাহলে কি বিজেপি ছাড়া সবার নাম বাদ? কেন শুধু তাদের অভিযোগ মানা হবে? বিজেপি চিঠি দিলেই কি নাম বাদ হবে? বিজেপির আইটি সেলের তৈরি তালিকা অনুযায়ী ভোট করানো হবে? যা ইচ্ছে করবার চেষ্টা করলে বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেই।’ শেষে তিনি গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিহার পারেনি, বাংলা পারবে। এসআইআর করুন, এজেন্সি লাগান। যা ইচ্ছে করুন, কিচ্ছুতেই লাভ হবে না।’
❤ Support Us







