- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ২৫, ২০২৫
বারাসত মেডিক্যাল মর্গ থেকে চোখ চুরির অভিযোগ, বিক্ষোভে আটকে মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও মৃতের মা-কে চাকরির আশ্বাস
বারাসত হাসপাতালের মর্গে চোখ চুরির অভিযোগে উত্তেজনা, বিক্ষোভ আর চরম ক্ষোভের সঙ্গে মিলেমিশে নজিরবিহীন পরিস্থিতি দেখা দিল। কাজীপাড়া নেতাজিনগরের বাসিন্দা প্রীতম ঘোষ (৩৪), সোমবার ভোরে যশোর রোড সংলগ্ন জায়গায় মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। তাঁকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, যখন মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিতে তাঁরা মর্গে যান, তখন দেখা যায় প্রীতমের একটি চোখ মর্গ থেকে উধাও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে ইঁদুর চোখ নিয়ে গেছে, তবে পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, ‘এটি অঙ্গপাচারের চক্রের কাজ হতে পারে।’
ঘটনা জানাজানি হতে মর্গের বাইরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। যশোর রোড অবরোধ হয়ে যায়। এ সময়ই বনগাঁ থেকে কলকাতায় ফেরার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে। কনভয় থেমে যাওয়ায় কয়েক মিনিটে পুরো এলাকা টানটান হয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে ধৈর্য ধরে শোনেন মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভীষণ মর্মান্তিক ঘটনা। যে গেছে সে তো আর ফিরে আসবে না। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঘটনাস্থল থেকেই তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মৃত প্রীতমের আত্মীয়াকে বলেন, মৃতের মাকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। দুই দিনের মধ্যে বাড়িতে নিয়োগপত্র পৌঁছে যাবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সমস্ত কাগজপত্র পরিবারের কাছে নিয়ে নবান্নে জমা করবার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে বারাসাত হাসপাতালের এমএসভিপি ডা. অভিজিৎ সাহা জানান, ‘পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে, তারপর তদন্ত কমিটি গঠন হবে। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দেহ মর্গে রাখতে হবে তদন্তের স্বার্থে।’ অন্যদিকে, চাকরির আশ্বাস পেয়েও মৃতের পরিবারে হাহাকার। তাঁরা বলছেন, ‘চাকরি দিলে কি হারানো সন্তান ফিরে আসবে?’ মাত্র পনেরো দিন আগে প্রীতমের এক কন্যা সন্তান জন্মেছে। সংসারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন প্রীতম। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এদিন পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, ধারাবাহিকভাবে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটে চলছে, কেন স্বাস্থ্য দফতর বা প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না! প্রীতমের পরিবার পরিজনরা দাবি তুলছেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। দোষীদের শাস্তি চাই।’ প্রশাসন বলছে, তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।
❤ Support Us







