- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ২২, ২০২৫
ঘুষ নিলেই হবে এফআইআর, আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী
বুধবার আলিপুরদুয়ারে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলা আধিকারিকদের নানান বিষয়ে কার্যত সতর্ক করলেন তিনি। আবাস যোজনার সম্পর্কে বলতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “প্রত্যেকটা কাজের নজরদারি হচ্ছে। ভাববেন না, কলকাতা থেকে আলিপুর দুয়ারের খুব দূরত্ব বেশি। এক সেকেন্ডে যোগাযোগ করা যায়। সমন্বয় পোর্টালের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকটা কাজের নজরদারি করি।”
আবাস যোজনা, জল প্রকল্প, জমি ও কৃষি পাট্টা সহ চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য নানান প্রকল্পের কথা উঠে এসেছে তাঁর আলোচনায়। পুরো জেলার উন্নয়নের তালিকা হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৪৪১টি প্রকল্পের মধ্যে ৩০৩ টি শেষ হয়েছে। ১০৮টি প্রকল্পের কাজ সময়ে শেষ হয়নি। ৩০টি প্রকল্প ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে শেষ হয়নি। অভিযোগের নানা খবর আছে বলে উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গভর্মেন্ট প্রকল্পের জন্য কাউকে এক পয়সা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিষ্কার বলছি- কমপ্লেন এলে অ্যাকশন নেব। এফআইআর করা হবে।” মুখ্যসচিবের প্রঙ্গসা করে আজো মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “মুখ্যসচিব যদি একদিন জেলায় এসে পাঁচ, ছ’টা জায়গায় যেতে পারে তাহলে বিডিওরা পারবেন না কেন? জেলাসফরে বেরিয়ে কাজের গাফিলতি, ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ, ফিল্ড সার্ভে না করা ইত্যাদি বিষয়ে বারবার সরব হতে দেখা গেছে তাঁকে, এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
জেলায় একাধিক প্রকল্পের তথ্য, নতুন প্রকল্প রূপায়ন ও সার্বিকভাবে জেলায় কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করবার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অরণ্যাঞ্চল ডুয়ার্সে পর্যটন ও গ্রামীণ এলাকাগুলিতে কর্মশ্রী প্রকল্পের কাজ বাড়ানোর নির্দেশ। বক্সায় হোম স্টে নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে। একাধিক হোটেল, হোম স্টে বন্ধের নোটিস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাইকোর্টে রএছে সে মামলা। কেন হোম স্টে বন্ধ করা হবে? তা নিয়েও এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের সভায় তিনি বলেছেন, “কে বাড়িতে হোম স্টে করবে, সেটা তার সিদ্ধান্ত। এখানে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের কোনও আপত্তি থাকতে পারে না।” এরপরই যাদের হোম স্টে বন্ধ করা হচ্ছে, প্রশাসনের সাথে মিলিত হয়ে তাঁদেরও আদালতে গিয়ে লড়াই করার আবেদন করেছেন তিনি। জঙ্গে উঁচু উঁচু আবাসন নির্মাণ প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় বলেছেন, জঙ্গল সাফ করে যদি কোথাও আবাসন গড়ে তোলা হয়, তাতে যে বা যাঁরা বিল্ডিং তৈরির অনুমোদন দেবেন, তাঁদের সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের কাছ থেকে জঙ্গল সাফারির নামে বাড়তি টাকা নেওয়া যাবে না বলেও সাফ জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল বৈঠকে অভিযোগ করেন, “রাজাভাতখাওয়ায় পর্যটকদের গাড়ি নিয়ে ঢুকতে অনেক টাকা দিতে হয়। মাথাপিছু ও গাড়িপিছু আড়াই হাজার টাকা।” সঙ্গে সঙ্গে মমতা প্রশ্ন করেন, “কেন টাকা দিতে হয়? কার অনুমতিতে টাকা নেওয়া হয়? কে ঠিক করেছে?” জবাবে বনদপ্তরের এক কর্তা জানান, “মাথাপিছু এবং গাড়ির এন্ট্রি ফি- দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা! চিফ ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন ঠিক করেছেন। একটি তালিকা রয়েছে, যেখানে কোন জায়গার কত এন্ট্রি ফি লেখা আছে।”
বস্কার জঙ্গলে বায়ুসেনার, ‘অনুপ্রবেশকারীদের গুলি করা হবে’ পোস্টারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “এয়ারফোর্স কীভাবে এমন নোটিস দিতে পারে? এ কেমন ভাষা! কারো সাথে কথা না বলে এ ধরণের পোস্টার দেওয়া উচিৎ নয়। “ভীষণ আনহেলদি লাইন।” এরপরই বায়ুসেনাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি পরিকল্পনা করে কেউ একাজ করে থাকে তাহলে এমন ভাবার কারণ নেই যে আমরা ছেড়ে দেব।” পাশাপাশি অরণ্যের প্রতি নজর দেবার নির্দেশ ডিএফওদের। বাইরের রাজ্য থেকে বাঘ ঢুকে পড়বার বিষয়েও অন্য রাজ্যগুলির সমালোচনা করতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে।
বৈঠকের শেষের দিকে আধিকারিকদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বারানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী, চলতি অর্থবর্ষে ঘোষিত প্রকল্পের রূপায়নের কাজ শেষ করতে চাইছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বলেছেন, “মানুষের কাজে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করব না। কোয়ালিটি কাজ চাই। মনে রাখবেন, আপনারা কাজ করার পর আমরা কিন্তু থার্ড পার্টিকে দিয়ে ভেরিফিকেশন করিয়ে থাকি।”
অন্যদিকে, আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। আজকের সভা থেকেই নেতাজীর জন্মজয়ন্তী পালনের বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কাল বেলা ১২ টায় ডুয়ার্সে সাইরেন, শাঁখ বাজিয়ে দেশনায়ককে স্মরণ করা হবে। প্রত্যেক ধর্মালম্বী মানুষকে এগিয়ে আসবার আবেদন করছেন ও গোটা রাজ্যে জন্মজয়ন্তী পালনের বার্তা দিয়েছেন।
❤ Support Us






