- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬
কয়লা পাচার মামলায় ইডির জালে মামা-ভাগ্নে, জিজ্ঞাসাবাদে বিজেপির শীর্ষ নেতার নাম উঠেছে দাবি তৃণমূলের
কয়লা পাচার কাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্তের জিজ্ঞাসাবাদে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম উঠে এসেছে বলে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা ওই নেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। এই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতার বয়ান রেকর্ড করতে ইডি শীঘ্রই নোটিস জারি করতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
মঙ্গলবার দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) কয়লা পাচার মামলায় চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ-কে গ্রেপ্তার করে। সম্পর্কে তাঁরা মামা-ভাগ্নে। তদন্তে জানা গেছে, বাম আমল থেকেই অবৈধ কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয় এবং বালি পাচারেও জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন দু’জনেই।
চিন্ময় মণ্ডলের বাড়ি পুরুলিয়া জেলায়। তবে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অম্বুজা নগরী ও বিধাননগরে তাঁর দুটি অফিস রয়েছে। কিরণ খাঁ রানিগঞ্জের বাসিন্দা এবং তাঁর বিরুদ্ধেও বালি পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বেহিসেবি নগদ অর্থ ও কয়লা-বালি পাচার সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। সেই সূত্র ধরেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, চিন্ময় মণ্ডল ও কিরণ খাঁ এই পাচার চক্রের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও অপারেশনাল দিক সামলাতেন। এমনকি প্রভাবশালী মহলের কাছে ‘প্রটেকশন মানি’ পৌঁছে দেওয়ার কাজও তাঁরা করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে কুণাল ঘোষ লেখেন, কয়লা মামলায় সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া দুই অভিযুক্তের বয়ানে বিজেপির এক শীর্ষ নেতার নাম এসেছে এবং মাসে মাসে বিপুল টাকা তাঁর কাছে যেত। তিনি আরও দাবি করেন, খবর পেয়ে ওই নেতা পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার দিল্লি গিয়েছিলেন। যদিও এখনও ইডি দফতরে কোনও ‘রক্ষাকবচ’-এর বার্তা আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, ইডি কি সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, নাকি দিল্লি থেকে রাজনৈতিক সুরক্ষা এসে যাবে? তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে কয়লা পাচার মামলায় ইডির সক্রিয়তা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। এখন ইডির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
❤ Support Us







