- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৫
রুশদিকে আক্রমণ, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হাদি মাতার
২০২২ সালে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানমঞ্চে, ‘স্যাটানিক ভার্সেস’-এর লেখক সালমান রুশদির উপর হামলা হয়। ছুরিকাঘাতে নষ্ট হয়ে যায় তাঁর একটি চোখ। হত্যাচেষ্টার মামলায় আক্রমণকারী হাদি মাতারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে নিউইয়র্কের চাটাউকুয়া কাউন্টি আদালত। আগামী ২৩ এপ্রিল সাজা ঘোষণা করা হবে, হতে পারে সর্বোচ্চ ৩২ বছরের কারাদণ্ড।
২০২২ সালে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানমঞ্চে, ‘স্যাটানিক ভার্সেস’-এর লেখক, সালমান রুশদির উপর হামলা হয়। ছুরিকাঘাতে নষ্ট হয়ে যায় তাঁর একটি চোখ। সেই হত্যাচেষ্টার মামলায় আক্রমণকারী হাদি মাতারকে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি দোষী সাব্যস্ত করেছে নিউইয়র্কের চাটাউকুয়া কাউন্টি আদালত। দু সপ্তাহ শুনানির পর তাঁকে রুশদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। আগামী ২৩ এপ্রিল সাজা ঘোষণা করা হবে, হতে পারে সর্বোচ্চ ৩২ বছরের কারাদণ্ড।
১২ আগস্ট, ২০২২ তারিখে চৌতাউকুয়া ইনস্টিটিউশনে একটি বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল রুশদির। তাঁর বক্তৃতার ঠিক আগে, কালো পোশাক এবং মুখোশ পরা এক ব্যক্তি নিরাপত্তার ফাঁক গলে মঞ্চে উপস্থিত হন। রুশদিকে বারবার ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর জখম হন বুকার সম্মান বিজয়ী লেখক। তৎক্ষণাৎ তাঁকে উত্তর-পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়, চলে একাধিক অস্ত্রোপচার। তাঁর ঘাড়ে ৩টি, পেটে ৪টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। গভীর আঘাতে রুশদির একটি চোখ চোখ চিরকালের জন্য অন্ধ হয়ে যায়। আক্রমণে একটি হাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আক্রমণের সময় সাহিত্যিকের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন সাংবাদিক হেনরি রিস। হামলায় তিনিও মাথায় আঘাত পান। এই হামলার জন্যও হাদি মাতারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। নিজের সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আহত লেখক বলেছিলেন, ‘সেদিন আক্রমণকারীর কালো, হিংস্র চোখ তাঁকে বেশি আঘাত করেছে। প্রথমে মনে করিছেলাম ঘুষি মারা হচ্ছে, কিন্তু শীঘ্রই বুঝতে পারি যে আমার জামাকাপড় রক্তে ভিজে যাচ্ছে।’ মৃত্যুর মুখোমুখি হবার ভয়াবহ সে অভিজ্ঞতা নিয়ে সালমান রুশদি লিখেছেন, তাঁর সাম্প্রতিক বই ‘ছুড়ি’।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, নিউ জার্সির বাসিন্দা হাদি মাতার। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আগ্রহ হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছিল। আচরণে এসেছিল বদল। মনে করা হচ্ছে কেউ বা কারা তাঁকে, বিতর্কিত ওই লেখকের উপর হামলা করার জন্য প্ররোচিত করেছিল। লেবাননের বংশভূত মাতারকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে বস্তুগত সহায়তার আরেক মামলাতেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। জেল থেকে নিজের বক্তব্যে হাদি বলেছিলেন, তিনি মনে করেন না সালমান রুশদি ভালো কোনো মানুষ। যিনি ধর্ম অবমাননাকারী। ইরানের প্রাক্তন সবোর্চ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেইনি দ্বারা তিনি অনুপ্রাণিত কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমি আয়াতুল্লাহকে সম্মান করি। আমি মনে করি তিনি একজন মহান ব্যক্তি।’
রুশদি ১৯৮১ সালে তাঁর লেখা বই ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালে তাঁর চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য তাঁকে ৯ বছর আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসে ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে, এই অভিযোগ উঠেছিল। এটি প্রকাশের পর থেকে সালমান রুশদি হত্যার হুমকি পেয়ে আসছিলেন। বহু দেশেই নিষিদ্ধ করা হয় বইটিকে। সে সময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেইনি সালমান রুশদির মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া জারি করেন। লেখকের মাথার দাম হিসেবে ৩ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
❤ Support Us







