Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪

ভারতের রাজনীতির নক্ষত্রপতন, প্রয়াত সীতারাম ইয়েচুরি

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতের রাজনীতির নক্ষত্রপতন, প্রয়াত সীতারাম ইয়েচুরি

দিল্লির এইমস হাসপাতালেই দুপুর তিনটে নাগাদ প্রয়াত হন সীতারাম ইয়েচুরি। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। গত ১৯ অগস্ট শ্বাসযন্ত্রে গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ার পর সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে ভর্তি করানো হয়েছিল দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস)-এ। প্রথম থেকেই আইসিইউয়ে রাখা হয়েছিল তাঁকে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অবস্থার অবনতি হয়। কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য নিতে হয় চিকিৎসকদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য নীলোৎপল বসু জানিয়েছেন, সীতারাম আর নেই। দুপুর ৩টে ৩মিনিটে প্রয়াত হন সীতারাম।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেস বিবৃতিতে শোকজ্ঞাপন করা হয় এবং কর্মী, সমর্থক ও অনুরাগীদের উদ্দেশে জানানো হয় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন কর্মসূচীর সময় বিবরণ অতি শীঘ্র জানিয়ে দেওয়া হবে।
১৯৫২ সালের ১২ অগস্ট ইয়েচুরির জন্ম মাদ্রাজে (অধুনা চেন্নাই)। পৈতৃক বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দরাবাদে। স্কুলশিক্ষা প্রথমে সেখানেই। ১৯৬৯ সালে দিল্লির প্রেসিডেন্ট এস্টেট স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকেই সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। অর্থনীতিতে স্নাতক হন দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে। তার পর স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তি হন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)-এ।

জেএনইউয়েই ইয়েচুরির বামপন্থী ছাত্র রাজনীতিতে যোগ। সেখানে পড়াকালীনই সিপিএমের সদস্যপদ গ্রহণ করেন এবং পুরো সময়ের রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৭৮ সালে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক হন। ১৯৮৪ সালে এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি। সিপিএমের অন্ধ্রপ্রদেশ (তখন অবিভক্ত) রাজ্য কমিটিতে ছিলেন। ১৯৮৫ সালে পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সাল থেকে পলিটব্যুরোর সদস্য। ২০১৫ সালে কোঝিকোড় পার্টি কংগ্রেসে তিনি সিপিএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলা থেকে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন ইয়েচুরি। সংসদীয় রাজনীতি সম্বন্ধে ছিল গভীর জ্ঞান। দ্য আদার সাইড: রিফাইন্ডিং ভারত এবং দ্য গ্রেট রিভল্ট: দ্য লেফ্ট অ্যাপ্রাইসের মতো দুটি মনোজ্ঞ বইয়ের রচয়িতাও তিনি ।

প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হরকিশান সিং সুরজিতের জোট-গঠনের উত্তরাধিকারকে অব্যাহত রেখে পি চিদাম্বরমের সাথে সহযোগিতায় ১৯৯৬ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের জন্য এক ঐতিহাসিক কর্মসূচিভিত্তিক খসড়া তৈরি করেন সীতারাম। অসাম্প্রদায়িক, মৌলবাদবিরোধী জোট গঠনে পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের আগে নির্মিত ইন্ডিয়া জোট বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলের একক কান্ডারী যার সারথি সীতারাম। দক্ষিণপন্থার আবহে প্রায় মুড়ে যাওয়া ভারতবর্ষে বামপন্থার, মার্কসবাদের ব্যাটন দিয়ে গেলেন উত্তরসূরীদের হাতে। কঠিন সময়ে। নেতার মতোই তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁর মরদেহ এইমস হালপাতালে দান করা হবে ।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়,  শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংসদের অকাল মৃত্যু ভারতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি । দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, উনি ছিলেন ইন্ডিয়া জোটের মূল প্রবক্তা ।বহুত্ববাদী ভারত সম্পর্কে থিল ওঁর গভীর জ্ঞান । রাষ্ট্রপতি দ্রোপদী মূর্মূও শোকজ্ঞাপন করেছেন টুইটবার্তায় ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!