- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুলাই ১৫, ২০২৩
এসএসকেএম হাসপাতালের মধ্যে মাইক বাজিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন, সমালোচনার মুখে অভিষেক।উঠল প্রশ্ন তৃণমূল নেতার জন্য কী আলাদা আইন?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কি দেশের কোনও আইনই প্রযোজ্য নয়? না হলে তিনি কি করে এসএসকেএম হাসপাতালের মধ্যে দাঁড়িয়ে টেবিল পেতে, মাইক বাজিয়ে শুক্রবার দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন? আর এই সাংবাদিক সম্মেলনে টানা মাইক বাজিয়েই তিনি তাঁর পুরো বক্তব্য রাখলেন? এই নিয়ে সিপিএম দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহল এমন কি সমাজকর্মীরাও এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলছেন, কী ভাবে এসএসকেএম হাসপাতালের মধ্যে উডবার্ন ওয়ার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে, মাইক বাজিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় প্রেস কনফারেন্স করলেন? এর পরেও প্রশাসন নীরব? ওটা তো সাইলেন্স জোন। এখানে শব্দ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাহলে কি ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজ সাংসদ হয়ে এটা করতে পারলেন?
সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে টুইট করে প্রশ্ন করেছেন রাজ্য প্রসাশনকে। তিনি তাঁর টুইটে লিখেছেন, “ভাইপো হলে SSKM হাসপাতালেও মাইক বাজিয়ে সভা করা যায়? হাসপাতালে গাড়ির হর্ন বাজালেও তো চালকের থেকে ফাইন আদায় করা হয়। তৃণমূলের জন্য কি আলাদা নিয়ম? স্বাস্থ্য কিংবা পুলিশ মন্ত্রী কি শুনছেন কিছু? বে আইনী এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। শাসকেরা নির্বিকার কেন?”
ভাইপো হলে SSKM হাসপাতালেও মাইক বাজিয়ে সভা করা যায়?
হাসপাতালে গাড়ির হর্ন বাজালেও তো চালকের থেকে ফাইন আদায় করা হয়। তৃণমূলের জন্য কি আলাদা নিয়ম?স্বাস্থ্য কিংবা পুলিশ মন্ত্রী কি
শুনছেন কিছু?
বে আইনী এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে
দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
শাসকেরা নির্বিকার কেন? pic.twitter.com/KSV2ZhSUty— Dr.Sujan Chakraborty (@Sujan_Speak) July 15, 2023
তবে এখনও পর্যন্ত এসএসকেএম হাসপাতালের অধ্যক্ষ মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলে জানা নেই। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আইন আলাদা? না হলে এই এসএসকেএম হাসপাতালের অধ্যক্ষই তো তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রর বিরুদ্ধে সম্প্রতি হাসপাতালে ঢুকে ট্রমা কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন মদন মিত্রর বিরুদ্ধে, ভবানীপুর থানায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিলেন! মদন মিত্র সেদিন এক মুমূর্ষু রোগীকে দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ওই হাসপাতালে ভর্তি করতে নিয়ে গিয়েছিলেন, যিনি পেশায় এক তরুণ স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন, পরে তাঁকে আর জি কর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তিনি মারা যান। এই ঘটনায় মদন মিত্র রাজ্য সরকারকে ও মণিময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছিলেন, পরে অবশ্য মদন মিত্র শান্ত হয়ে যান কোনও এক অদৃশ্য কারণে।
এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এসএসকেএম হাসপাতালের মধ্যে মাইক বাজিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিক সম্মেলন করা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি হাসপাতালে দাঁড়িয়ে মাইক বাজিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন?
এই প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যের সমস্ত আইনের ঊর্ধ্বে । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কোনও আইন প্রযোজ্য নয়। সরকারি হাসপাতালের মধ্যে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মাইক বাজিয়ে প্রেস কনফারেন্স করলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত নিন্দা করতে আমরা শুনলাম না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ দেওয়া উচিত ছিল হাসপাতালের মধ্যে মাইক বাজানোর জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার। তিনি তো পুত্র স্নেহে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র, তিনি নির্দেশ দেননি। আর পশ্চিমবাংলার কোন পুলিশের ঘরে এই মাথা আছে যে তিনি গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যারন করবেন যে হাসপাতালের ভিতরে এটা বেআইনি কাজ, কাজেই এ কাজ আপনি করতে পারেন না। সুতরাং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গেছেন তিনি যা খুশি করতে পারেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যা খুশি করতে দেওয়া হবে। এই কারণের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সিবিআই, ইডিকে আটকে রেখেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করার থেকে। না হলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সোনা পাচার মামলায় অনেক দিন আগে গ্রেফতার হন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সারদা মামলায় গ্রেফতার হন, কয়লা, গরু, বালি, পাথর পাচারে গ্রেফতার হন। অযোগ্যদের চাকরি দেওয়ার ওয়েমার শিটে যাদের যাদের যাদের নাম পাওয়া গেছে, প্রত্যেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ট। প্রত্যেকের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথোপকথনের শয়ে শয়ে রিপোর্ট আছে। সুতরাং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সব আইনের ঊর্ধ্বে । আমার প্রশ্ন, ভারতের সংবিধানের পেনাল কোডে যা যা আইন আছে তার কোনওটা আদৌ কোনও আইন প্রযোজ্য কি না?”
❤ Support Us






