- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- নভেম্বর ২৬, ২০২৫
‘ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে…’ এসআইআর মামলার শুনানিতে বলল নির্বাচন কমিশন। সময়সীমা বাড়ানোয় সায় সুপ্রিম বিচারপতিদের
সুপ্রিম কোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শুরু হয় ‘এসআইআর’ সংক্রান্ত মামলার শুনানি। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীও। এ মামলার কেন্দ্রীয় বিষয় বিএলও-দের কার্যক্রম, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা।
এদিনের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বুথ স্তরের কর্মকর্তারা বা বিএলওরা ভোটারদের এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণ করে স্বাক্ষর করলে তা জমা হয়েছে বলে গণ্য হবে। কমিশনের দাবি, ফর্মের ডিজিটাইজেশন তাদের নিজস্ব কাজ এবং এটি ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বিএলও-দের উপর রাজনৈতিক চাপ ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে ২৩ জন বিএলও প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ভয় দেখানোর কারণে কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন। কমিশন বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছে।
অন্যদিকে মামলাকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং কপিল সিব্বল আদালতে বলেন, ভোটারদের ওপর ফর্ম পূরণের বোঝা চাপানো যাবে না। সিব্বলের বক্তব্য, দেশের বহু মানুষ, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নিরক্ষর, তাই ফর্ম নিজে পূরণ করতে পারবে না। ফর্ম পূরণ না হলে নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে, তবে তার জন্য যথাযথ কারণ থাকা বাধ্যতামূলক। উত্তর প্রধান বিচারপতি কান্ত জানান, এই কাজের জন্য বিনা খরচে আইনি সহায়ক বা ফ্রি লিগ্যাল ভলান্টিয়ার রয়েছে। যদিও সিব্বলের মতে, দেশে কোটি কোটি ভোটার রয়েছেন। ভোট দিতে গেলে যদি দেখা যায়, তাদের নাম তালিকায় নেই, তারা কী করবেন? সিব্বল আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রক্রিয়া আগে কখনো দেশেই হয়নি।’ প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মন্তব্য করেন, ‘আগে কখনও হয়নি’ এ কারণে কোনো প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা বিচার করা যায় না। বিচারপতি বাগচী বলেন, নথিপত্র ঠিকঠাক রয়েছে কি না তা যাচাই করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি আরো বলেন, ‘আধার কার্ড কখনো নাগরিকত্বের সম্পূর্ণ প্রমাণ হতে পারে না। সে কারণেই তালিকার মধ্যে এটি একটি সহায়ক নথি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদি কারও নাম বাদ যায়, তাদের অবশ্যই নোটিস দেওয়া হবে।’ প্রধান বিচারপতি কান্ত বলেন, ‘আধার কার্ড একটি সরকারি সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম। ধরুন কেউ প্রতিবেশী দেশের বাসিন্দা বা শ্রমিক হিসাবে এখানে কাজ করছেন। শুধু আধারের ভিত্তিতে তাঁকে ভোটার হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এটা আমাদের সাংবিধানিক নীতির বিরোধী।’
এদিন, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের প্রশ্ন তোলেন, ‘ভোটার তালিকায় নাম থাকলে তা বৈধ, ভুল থাকলে প্রমাণ করতে হবে—এটাই তো পদ্ধতি?’ এর উত্তরে সিব্বল জানান, দু-মাসের মধ্যে সব তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব। এরপরই আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রয়োজনে খসড়া ভোটার তালিকার প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। বাংলা, তামিলনাড়ু ও কেরলসহ একাধিক রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলমান। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছেন, ‘যদি প্রমাণ দেখানো যায় যে সময়সীমা অযৌক্তিক, তবে আমরা সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিতে পারি।’ দু-পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর এইদিন বাংলা সংক্রান্ত মামলার শুনানি ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ুর মামলাগুলোর শুনানি ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন বাংলায় ‘এসআইআর’ কার্যক্রম তত্ত্বাবধানের জন্য ৩ জন নির্বাচনী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন বিসি পাত্র, সৌম্যজিৎ ঘোষ এবং বিভোর আগরওয়াল, যারা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের অধীনে কাজ করবেন। এদিকে, রাজ্য সরকার দাবি করছে, বিএলও-দের উপর অমানুষিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, ‘এসআইআর-এর চাপের জেরে একাধিক অকালমৃত্যু ঘটেছে। আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।’ তবে কমিশন বলছে, রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপই কাজের পরিবেশকে বিপজ্জনক করেছে।
❤ Support Us






