- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জুলাই ৮, ২০২৪
ইন্দোনেশিয়ার অবৈধ সোনার খনিতে ভূমিধস। মৃত ১১, নিখোঁজ অন্তত ৪৫
ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে একটি অবৈধ সোনার খনির কাছে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ফলে কমপক্ষে ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসনিক আধিকারিকেরা।
স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা বাসারনাসের প্রধান হেরিয়ান্তো সোমবার বলেছেন, গোরোন্তালো প্রদেশের প্রত্যন্ত বোন বোলাঙ্গো জেলায় রবিবারের ভূমিধসে খনির শ্রমিক ও নিকটস্থ বসবাসকারী বাসিন্দাদের মৃত্যু হয়েছে। হেরিয়ান্তো বলেছেন , ‘আমরা নিখোঁজদের সন্ধানে জাতীয় উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও সামরিক কর্মীদের নিয়ে ১৬৪ জন কর্মী মোতায়েন করেছি । ‘ ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে উদ্ধারকারি দলকে যথেষ্ট বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কারণ ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হবে। এখনো অবিশ্রান্ত ধারায় বৃষ্টি হয়ে চলেছে এবং রাস্তায় ঘন কাদা থাকার কারণে উদ্ধারকারীরা খনি এলাকায় পৌঁছোতে পারেননি । তবে প্রয়োজন হলে এক্সকাভেটরের সাহায্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় ৭৯ জন গ্রামবাসী ওই ছোট সোনার খনির একটি গর্ত খনন করে সোনার দানা বের করছিলেন। তখন আচমকাই কয়েক টন কাদা পার্শ্ববর্তী পাহাড় থেকে নিচে এসে পড়ে এবং তাদের মাটি চাপা দেয় ।হেরিয়ান্তোর মতে, উদ্ধারকারীরা ছয়জন আহতসহ ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে এবং ২ নারী ও চার বছরের একটি বালকসহ ১১ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। আরো ৪৫ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির মুখপাত্র আব্দুল মুহারি বলেন, শনিবার থেকে প্রবল বর্ষণে এই এলাকায় একটি বাঁধ ভেঙেছে, যার ফলে বোন বোলাঙ্গোর পাঁচটি গ্রামে ৩ মিটার (১০ ফুট) পর্যন্ত বন্যা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । যদিও ১০০০ এরও বেশি মানুষ নিরাপদে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছেন।
তবে এখনই আবহাওয়ার কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিও মেলেনি। ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ডিজাস্টার কাউন্টারমেজার এলাকাবাসীদের সতর্ক করে বলেছে যে, গোরোন্তালো প্রদেশের কিছু এলাকায় সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে । তারা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল এজেন্সি ফর ডিজাস্টার কাউন্টারমেজার বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে যে গোরোন্তালো প্রদেশের কিছু এলাকায় সোম ও মঙ্গলবার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ।নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বর্ষাকালে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে। তবে জুলাই মাসে সাধারণত আবহাওয়া শুষ্ক হয় । তখন সাধারণত ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা।
খনিজ সমৃদ্ধ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দ্বীপপুঞ্জ জুড়ে এরকম লাইসেন্সবিহীন খনি ছড়িয়ে রয়েছে। এই খনিগুলিতে স্থানীয় মানুষেরা ভিড় জমান। কিছু উপায়ের আশায় তাঁরা যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই খনিতে নামেন। বেশিরভাগ সোনার আকরিক প্রক্রিয়াকরণে বিষাক্ত পারদ ও সায়ানাইড ব্যবহৃত হয়। কর্মীরা প্রায়শই কোন সুরক্ষাকবচ ব্যবহার করেন না। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইন্দোনেশিয়ার শেষ বড় খনন-সম্পর্কিত দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে । উত্তর সুমাত্রার মান্ডাইলিং নাটাল জেলায় একটি অবৈধ সোনার খনিতে একটি ভূমিধসে ১২ জন মহিলার মৃত্যু হয়।
ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের একটি অবৈধ সোনার খনিতে ৪০ জনেরও বেশি মানুষ মাটি চাপা পড়ে মারা যান। তবে ঘটনার ৫ বছর কেটে গেলেও এখনও যে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়নি, সোমবারের এই ঘটনাই তা প্রমাণ করে।
❤ Support Us







