- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ১০, ২০২৫
‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যু মিছিল অব্যাহত, বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে নিন্দাপ্রস্তাব আনতে পারে তৃণমূল, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতার
ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার ‘আতঙ্কে’ আরো এক শ্রমিকের মৃত্যু এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা পশ্চিমবঙ্গে নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কেরালায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে নবগ্রামের বাসিন্দা বিমল সাঁতারার। মৃত বিমলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এদিন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও স্বপন দেবনাথের নেতৃত্বে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব পৌঁছায়। এরপর দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশে রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম, পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, জামালপুর ব্লক সভাপতি মেহেমুদ খান, জেলার এসসি-ওবিসি সেলের সভাপতি অলক কুমার মাঝি এবং এসটি সেলের জেলা সভাপতি তারক টুডু সহ একঝাঁক তৃণমূল নেতা পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।
তাঁর মৃতের পরিবারকে আশ্বাস দেন, ‘কাউকে অযথা আতঙ্কিত হতে হবে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত বৈধ নাম সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তৃণমূল পাশে আছে।’ তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি ভয় দেখিয়ে বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করছে। নির্বাচন সামনে, এই তৎপরতার জবাব মানুষ অবশ্যই নির্বাচনের মাধ্যমে দেবে।’ মৃতের পরিবার তৃণমূল নেতৃত্বের এই মানবিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, কাজের চাপে ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু বিএলও-র মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরেও ছড়িয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অভিযোগ, এসআইএর-র জন্য এনুমারেশন ফর্ম বিলি ও ফর্ম ঠিকঠাক পূরণ করে জমা নেওয়ার চাপ সহ্য করতে পারছিলেন না বুথ লেভেল অফিসার নমিতা হাঁসদা । শেষ পর্যন্ত ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওই বিএলও-র। এ ঘটনার জন্য বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে তৃণমূল। অন্যদিকে ফর্ম জমা নেওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর দাবি করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলওরা। জানা গেছে, পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার অন্তর্গত বোহার ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের চকবলরামের বাঙালপুকুর এলাকায় রবিবার এসআইআর-এর ফর্ম বিলি করছিলেন বিএলও-র দায়িত্বে থাকা অঙ্গনওয়ারি কর্মী নমিতা। সে সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সংজ্ঞা হারান। তড়িঘড়ি তাকে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয় কালনা মহকুমা হসপিটালে। রাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
চিকিৎসকরা জানান, ব্রেন স্ট্রোকের শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন নমিতাদেবী। দায়িত্বের পাহাড়প্রমাণ চাপেই এই মৃত্যু বলে অভিযোগ তুলেছে নমিতার পরিবার। রবিবার রাতে কালনা শ্মশান ঘাটে স্ত্রীকে দাহ করতে এসে মাধব হাঁসদা জানান, ‘বিডিও অফিস থেকে প্রচন্ড চাপ দেওয়া হচ্ছিল দ্রুত ফর্ম বিলি ও জমা নেওয়ার জন্য। রোজ রাত পর্যন্ত ফর্ম বিলি করতে হত নমিতাকে।’ কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই অকাল মৃত্যু অভিযোগ পরিবারের।’ রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের ক্ষোভ, ‘বিজেপির রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হচ্ছেন বাংলার মানুষ। একটার পর একটা প্রাণ চলে যাচ্ছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তবু কোনো হেলদোল নেই। বাংলার মানুষ বিজেপিকে ক্ষমা করবে না।’
এসআইআর ‘আতঙ্কে’ ক্রমবহমান মৃত্যুমিছিলের আবহে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধণ প্রক্রিয়ার কারণে একাধিক অকালপ্রয়াতের ঘটনা ঘটেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব শীতকালীন বিধানসভা অধিবেশনে কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করছে। এক তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘এটি সাধারণ ভোটার তালিকা সংশোধন নয়। এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযান, মানুষের মধ্যে ভয় ছড়াতে এবং বাংলার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে নষ্ট করতে পরিকল্পিত। আমরা বিধানসভায় একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া আনব।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি রেড রোড থেকে জোড়াসাঁকো পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। মমতা বলেছেন, ‘এই ভয়াভিযান ইতিমধ্যেই মানুষের জীবন কেড়েছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হবেন না। আপনারা ভোটের অধিকার হারাবেন না।’ পাশাপাশি নবান্নে, সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যে এপর্যন্ত ১৪ জনের মৃ্ত্যু হয়েছে, সেবিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির । তারা শুধু ধর্মের নামে কার্ড তৈরি করতে ব্যস্ত । রাজ্যে বিজেপির পার্টি অফিসের সামনে সিএএ নিয়ে ক্যাম্প খোলা হচ্ছে, মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে । এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতারও তীব্র সামালোচনা করেছেন তিনি ।
বিজেপির পাল্টা দাবি, এসআইআর একটি নিয়মিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। তৃণমূল বিষয়টিকে রাজনৈতিক আঙিনায় ব্যবহার করছে। নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে, ভোটার পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক নয়, কাউকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে এসআইআর আতঙ্কে নিহতদের মৃত্যুকে ঘিরে ‘নিন্দা প্রস্তাব’ আনবার পথে রাজ্যের শাসক দল। ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ার অপ্রয়োজনীয় চাপ এবং ভয় দূর করা লক্ষ্য বলে জানাচ্ছে জোড়াফুল শিবির। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছে তৃণমূল। রাজ্যটা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদে ভরে গিয়েছে। আর ওই অবৈধ ব্যক্তিরাই মমতা ব্যানার্জির ভোটার। তাই ‘এসআইআর’-এর বিরোধিতা করে ওদের বাঁচাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। আমরা এসব সহ্য করবো না। পশ্চিমবঙ্গকে ভুয়ো ভোটার, দুষ্কৃতি আর অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য থাকতে দেব না।’ এরপরই ‘এসআইআর’ বিরোধিতায় তৃণমূলের ‘নিন্দা প্রস্তাব’ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি আতঙ্কে মারা যান তবে নিন্দাপ্রস্তাব হতে পারে, কিন্তু আত্মঘাতী হলে বিধানসভায় নিন্দাপ্রস্তাব আনা যায় না।’ তৃনমূল অবশ্য নিজের সিদ্ধান্তে অনোড়। তাদের দাবি, বিধানসভায় আলোচনা মানে ভোটারদের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া এবং কেন্দ্রের পদক্ষেপের পুনর্বিবেচনার দাবি আনা।
❤ Support Us






