- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫
‘দিল্লি দাঙ্গা’য় অভিযুক্ত জেএনইউ প্রাক্তনী উমর খালিদ, শরজীল ইমামসহ ৯ জনের জামিন আবেদন খারিজ
উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার ‘বৃহৎ ষড়যন্ত্র’ মামলায় অভিযুক্ত জেএনইউ-র প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শরজীল ইমামের জামিন আবেদন খারিজ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধৃত আরও ৭ অভিযুক্ত—আথার খান, খালিদ সাইফি, মোহাম্মদ সেলিম খান, শিফা উর রহমান, মীরান হায়দার, গলফিশা ফাতিমা এবং শাদাব আহমেদ—এর জামিন আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি নবীন চাওলা ও বিচারপতি শালিন্দর কৌরের ডিভিশন বেঞ্চে বিচারাধীন ছিল এই জামিনের আবেদন। এর আগে গত বছর মে মাসে দিল্লির করকড়ুমা আদালত উমর খালিদের জামিন আবেদন নাকচ করেছিল। মঙ্গলবার, উচ্চ আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, সমস্ত আবেদন খারিজ করা হলো।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘটিত হিংসায় মোট ৫৩ জন নিহত হন এবং ৭০০-এর বেশি মানুষ আহত হন। পুলিশের অভিযোগ, উমর খালিদ, শারজীল ইমামরা ওই দাঙ্গার মূল ষড়যন্ত্রকারী। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তৃতা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়। শরজীল ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, হিংসাপর্বের সময় তিনি দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া এবং উত্তরপ্রদেশের আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা করেছেন। উভয় অভিযুক্তসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা একে অপরের সঙ্গে হোইয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ করছিল, সেগুলিই পুলিশ ও আদালতের প্রমাণ হিসেবে পেশ করেছে।
ইউএপিএ-এর আওতায় উমর খালিদকে গ্রেফতার করা হয় ২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ ৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি জেল হেফাজতে আছেন। প্রথমে তার জামিন আবেদন ট্রায়াল কোর্টে নাকচ করা হয়। এরপর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন, যেখানে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র মামলার থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। পরে প্রাক্তন জেএনইউ গবেষক নিজেই শীর্ষ আদালত থেকে জামিনের আর্জি প্রত্যাহার করেন এবং পুনরায় করকড়ুমা আদালতের দ্বারস্থ হন। সে আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। উমর খালিদের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট ত্রিদীপ পাইস আদালতে দাবি করেছেন, ‘উমর কেবল কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের সদস্য ছিলেন। তিনি গ্রুপে খুব সীমিত বার্তা পাঠিয়েছেন। শুধু গ্রুপে থাকা কোনো অপরাধের ইঙ্গিত নয়। তার কোনো বার্তায় কোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম সংঘটিত হয়নি।’ পাল্টা পুলিশের পক্ষে কেন্দ্রীয় সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘যারা দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে, তাদেরকে অবশ্যই জেলেই থাকতে হবে। উমর খালিদ ও শরজীল ইমাম দেশের ধর্মীয় ভিত্তিতে বিভাজনের চেষ্টা করছিল। তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল এবং ওঁদের ষড়যন্ত্রেই সে সময় হিংসাত্মক ঘটনাগুলি ঘটছিল।’ অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত শিফা উর রহমানের পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট সালমান খুরশিদ এবং আবদুল খালিদ সাইফির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট রেবেকা জন আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে আদালত জানিয়েছে, মামলার প্রাথমিক অভিযোগগুলো যথাযথভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া যাবে না।
❤ Support Us







