- দে । শ
- মে ২৩, ২০২৩
তিন রাজ্যে ১০০র বেশি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত মাওনেতা গ্রেফতার।নেপাল সীমান্তে শিখ ছদ্মবেশে চালাতেন ধাবা
এনআইএর হেফাজতে নিষিদ্ধ মাওবাদী সংগঠনের স্বঘোষিত নেতা দীনেশ গোপ। তিন রাজ্যে ১০০ টিরও বেশি ফৌজদারি মামলায় তিনি অভিযুক্ত।গত রবিবার নেপালের একটি ধাবা থেকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
সুত্রের খবর, গত ১৩ মাস ধরে নেপালেই গাঢাকা দিয়ে ছিলেন স্বঘোষিত মাও নেতা দীনেশ।ছদ্ম শিখ পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে মাথায় পরতেন একটা পাগড়ি। সেখানে একটা ধাবাও খুলেছিলেন তিনি।
গত বছর, ৩ ফেব্রুয়ারি দীনেশ গোপের নেতৃত্বে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূমে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করে, মুখোমুখি সংঙ্ঘর্ষে উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েকজন জখম হন। ঘটনার পর, অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়লে, নেপালে পালিয়ে যান ওই মাও নেতা।এরপরই নেপাল-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে, বিরাটনগরে শুরু করেন হোটেলের ব্যবসা।
পুলিশ সূত্রে খবর, দীনেশ গোপ বিহার, ওড়িশা এবং ঝাড়খন্ডে তার সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, তবে পুলিশের চোখ এড়াতে ক্রমাগত বদলে ফেলতেন নিজের ফোন এবং সিম কার্ড । ২০২৩-এর শুরুতে, ফোনের সূত্র ধরেই দীনেশের নতুন ঠিকানা সম্বন্ধে জানতে পারে নিরাপত্তা বাহিনী।তারপরেই নেপালে অভিযান চালায় এনআইএ। পাঁচ বছর আগে, মাওবাদী সংগঠনের অপারেটরদের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দীনেশ গোপের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় স্থনীয় পুলিশ। মামলাটি এখনো আদালতের বিচারধীন।
ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং ওড়িশায় গোপের বিরুদ্ধে নথিভুক্ত ১০০ মামলার মধ্যে বেশিরভাগই মাও সংগঠনের তহবিল তৈরীর জন্য খুন, অপহরণ, হুমকি, জুলুম করে টাকা তোলার অভিযোগ।এছাড়াও বেআইনি অস্ত্রের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বিতর্কিত ওই মাও নেতার নামে।
নেপাল থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর, এনআইএর দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে দীনেশ তাদের বলেছেন, দলের জন্যে প্রায় ১২০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।বেনামে বিভিন্ন বেআইনি অস্ত্র ও গোলা বারুদ তৈরির সংস্থায় সেই টাকা বিনিয়োগের কথা তিনি স্বীকার করেছে বলে সূত্রের দাবি। ঝাড়খন্ড থেকে হাওয়ালা নেটওয়ার্কের মাধ্যমেও দলের নামে, জুলুম করে সংগ্রহ করা টাকা অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে এনআইএ।
পিএলএফআই, পূর্বে ঝাড়খণ্ড লিবারেশন টাইগার্স বা জেএলটি নামে পরিচিত, ঝাড়খণ্ডে বেশ কয়েকটি হত্যা সহ শতাধিক সন্ত্রাসমূলক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে।”এই সংগঠনটি বেকার যুবকদের মোটর বাইক, মোবাইল ফোন এবং সহজ শর্তে টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করত বলে অভিযোগ। তারপর এই যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, তাদের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে জড়িয়ে নেয় ওই সংগঠন, এমনি দাবি এনআইএ-র।
❤ Support Us






