Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ৮, ২০২৬

প্রবাসী ও পরিযায়ী ভোটারদের ‘সার’ শুনানি নিয়ে নতুন জট: পোর্টাল না হোয়াটসঅ্যাপ, মতভেদ কমিশন ও রাজ্যের সিইও দফতরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রবাসী ও পরিযায়ী ভোটারদের ‘সার’ শুনানি নিয়ে নতুন জট: পোর্টাল না হোয়াটসঅ্যাপ, মতভেদ কমিশন ও রাজ্যের সিইও দফতরের

ভিন রাজ্য বা ভিন দেশে কর্মরত পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (সার)–এর শুনানি কী ভাবে হবে, তা নিয়ে জট কাটতে না কাটতেই এ বার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক, ভিন রাজ্যে চিকিৎসা, পড়াশোনা বা কাজের কারণে থাকা বহু ভোটার প্রশ্ন তুলেছিলেন—শুনানিতে ডাক পড়লে তাঁরা সশরীরে হাজিরা দেবেন কী ভাবে? এই প্রশ্নে তৃণমূল কংগ্রেস–সহ একাধিক রাজনৈতিক দলও সরব হয়েছিল।

সূত্রের খবর, এই ধরনের ভোটারদের শুনানির পদ্ধতি নিয়েই মতভেদ তৈরি হয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের মধ্যে। রাজ্যের সিইও দফতর চাইছে, একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল তৈরি করে তার মাধ্যমে প্রবাসী ও পরিযায়ী ভোটারদের শুনানির ব্যবস্থা করতে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের মত—অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পোর্টাল তৈরি করা কঠিন। তাই একটি নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাই তুলনামূলক ভাবে সহজ ও কার্যকর হবে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি আধিকারিকদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নথি গ্রহণ করলে প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং দ্রুত শুনানির কাজ এগোবে। তবে রাজ্যের সিইও দপ্তর ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত পোর্টালের একটি রূপরেখা তৈরি করে ফেলেছে। এই পোর্টাল চালু হলে ‘ইসিআই-নেট’ অ্যাপ থেকেই তাতে প্রবেশ করা যাবে। ভোটাররা সাইবার ক্যাফেতে বসে বা নিজের মোবাইল ফোন থেকেই সহজে শুনানিতে হাজিরার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারবেন।
সিইও দপ্তরের প্রস্তাবিত পোর্টাল অনুযায়ী, প্রবাসী বা পরিযায়ী ভোটারদের নিজের ছবি, এপিক নম্বর, প্রয়োজনীয় নথি এবং স্বাক্ষর আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে যে ঠিকানায় বর্তমানে ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে, সেখানে বসবাসকারী নিকটাত্মীয়ের নামও উল্লেখ করতে হবে। সেই আত্মীয়ের নাম খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও ভিন রাজ্যে বা ভিন দেশে বর্তমানে যেখানে তাঁরা থাকেন বা কাজ করেন, সেই ঠিকানা, কর্মস্থল হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকের নাম অথবা বাড়ির মালিকের নাম জানাতে হবে। এর ফলে কমিশন প্রয়োজনে ভোটারের তথ্য যাচাই করতে পারবে এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) কাজও সহজ হবে।
অন্য দিকে, শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বা গ্রুপের মাধ্যমে নথি নেওয়া হলে যাচাই ও শুনানির প্রক্রিয়া কী ভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়—এই প্রশ্নও উঠছে।

এ দিকে, ‘সার’-এর শুনানি কেন্দ্রে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের হাজিরা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল। বুধবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের শুনানির জন্য কেন্দ্রে হাজির হতে হবে না। ইআরও বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইআরও–রা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি নেবেন। এই নির্দেশ অমান্য করে যদি কোনও বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) তাঁদের শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বাধ্য করেন, তবে সংশ্লিষ্ট বিএলও–দের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু বিএলও নিজেদের কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে না দেখে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছেন, যা কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।

এ দিন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল সিইও–র সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ তোলে যে, শুনানিকে ঘিরে কার্যত ‘মৃত্যুমিছিল’ চলছে এবং নিচুতলায় বহু বিএলও কমিশনের নির্দেশ মানছেন না। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তরফে আরও জোরালো প্রচার চালানোর অনুরোধও জানায় তারা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!