Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৪, ২০২৬

বিবাহ বিচ্ছেদে স্ত্রীকে দিতে হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা ! জোহো-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি আইনজীবীর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিবাহ বিচ্ছেদে স্ত্রীকে দিতে হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা ! জোহো-র প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি আইনজীবীর

সম্পর্কের ঠিকানা শুধু হৃদয়ে নয়, আর্থিক কাগজপত্রেও লেখা থাকে! সম্পর্কে বনিবনা না হলে বিচ্ছেদ ও বিশাল অঙ্কের খোরপোশের ঘটনা বিরল নয়। তবে সে পরিমাণ যদি আকাশ ছোঁয়া হয়, তা ঘিরে শোরগোল ওঠে বইকি। এমনই এক বিচ্ছেদ মামলা চমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। ‘জোহো কর্পোরেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শ্রীধর ভেম্বু এবার বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনার কেন্দ্রে। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ মামলার প্রেক্ষিতে ১.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৫,২৭৮ কোটি টাকা) বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যদিও আদেশটি গত বছরই থেকেই আছে, তবে সম্প্রতি এর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় আলোচনার ঝড় বয়ে গেছে। এ মামলা শুধু ভারতীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহবিচ্ছেদ হিসাবেই নয়, তা বিশ্বের ব্যবয়বহুল ৪টি বিচ্ছেদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধরা হচ্ছে।

১৯৯৩ সালে প্রমিলা শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শ্রীধর ভেম্বু। দম্পতির এক পুত্র রয়েছে, যিনি অটিজমে আক্রান্ত। ভেম্বু দীর্ঘ সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস করার পর ২০১৯ সালে ভারতে ফিরে আসেন। তামিলনাড়ুর পৈতৃক গ্রাম মঠলম্পাড়াই থেকে পরিচালনা শুরু করেন তাঁর প্রতিষ্ঠান ‘জোহো’-র। সে সময় থেকেই দাম্পত্য জীবনে তিক্ততা আসে, বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রমিলা শ্রীনিবাসন অভিযোগ তোলেন, তাঁর স্বামী তাঁকে এবং সন্তানকে পরিত্যাগ করেছেন। আদালতে দায়েরকৃত নথিতে বলা হয়েছে, ভেম্বু ‘জোহো’-এর শেয়ার এবং বৌদ্ধিক সম্পত্তি ভারতে স্থানান্তর করেছেন তার জ্ঞান বা সম্মতি ছাড়াই। শ্রীনিবাসনের অভিযোগ, ভেম্বু নিজের বোন রাধা ভেম্বু এবং ভাই শেখর ভেম্বু-র হাতে কোম্পানির বৃহত্তর অংশ রেখেছেন। বর্তমানে রাধা ৪৭.৮% এবং শেখর ৩৫.২% শেয়ারের মালিক। ভেম্বু নিজে মাত্র ৫% শেয়ারের মালিক, যা প্রায় ২২৫ মিলিয়ন ডলারের সমান। আদালতে শ্রীনিবাসন বলেছেন, ‘আমার স্বামী আমাদের পরিত্যাগ করেই আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে স্থানান্তর করেছেন, কোনো নগদ বা বিনিময় ছাড়াই।’ আদালত এই অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, শ্রীনিবাসনের জীবন সুরক্ষার জন্য বিশাল অঙ্কের বন্ড আদেশ জারি করে।

অন্যদিকে, ভেম্বুর আইনজীবী ক্রিস্টোফার মেলচার দাবি করেছেন, শ্রীনিবাসনের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, ‘শ্রীধর তাঁর স্ত্রীকে জোহো-এর শেয়ারের ৫০% দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছিলেন, কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টে এখন অভিযোগ করা হচ্ছে যে, ভেম্বু প্রতারণা করছেন। এটি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।’ মেলচার আরো বলেছেন, ‘ খোরপোশের ক্ষেত্রে ১.৭ বিলিয়ন ডলারের বন্ড আদেশ বাস্তবায়নযোগ্য নয়। ফলে তাঁরা পুনরায় আপিল জানাবেন।’ ফোর্বস পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ‘জোহো’ প্রতিষ্ঠাতা এই মুহূর্তে ভারতের ৩৯তম ধনী ব্যক্তি। ২০২৪ সালে ভেম্বুর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫.৮৫ বিলিয়ন ডলার। আর কিন্তু এই সম্পদের অর্ধেকের জন্যই তাঁকে আদালতের নির্দেশে বন্ড জমা দিতে বলা হয়েছে, যা দেশের উচ্চ-মূল্যের বিবাহবিচ্ছেদ তালিকায় এক নতুন রেকর্ড গড়ছে। বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহবিচ্ছেদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন মাইক্রোসফটের বিল গেটস এবং মেলিন্ডা গেটস। ২৭ বছরের দাম্পত্য শেষে মেলিন্ডা প্রায় ৭৩ বিলিয়ন ডলার পেয়েছিলেন। তারপরে অ্যামাজনের জেফ বেজোস এবং ম্যাককেঞ্জি স্কটের বিচ্ছেদে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার বিতরণ হয়। এরপর ফরাসি-আমেরিকান আর্ট ডিলার অ্যালেক এবং জোসেলিন উইলডেনস্টেইনের বিচ্ছেদ ৩.৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত গিয়েছে।

এই বিতর্কিত বিবাহবিচ্ছেদ আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মনোযোগ কেড়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত এবং আপিল প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা এখনো অজানা। তবে নিঃসন্দেহে এটি ভারতের ব্যবসায়িক ইতিহাসের একটি নজিরবিহীন মামলার উদাহরণ। ‘জোহো কর্পোরেশন’ শুধু একটি সফটওয়্যার কোম্পানি নয়; এটি ভারতীয় প্রযুক্তির গর্ব। ১৯৯৬ সালে ভেম্বু, তাঁর দুই ভাই এবং বন্ধু টনি থমাসের সঙ্গে ‘অ্যাডভেন্টনেট’ শুরু করেছিলেন, যা পরে ‘জোহো কর্পোরেশন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। আজ ‘জোহো মেল’, ‘জোহো রাইটার’, জোহো শিটস’ এবং ‘জোহো বুকস’-এর মতো ৪০টিরও বেশি অ্যাপ রয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহার হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!