Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ১৩, ২০২৪

দেশজুড়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা। উদ্বিগ্ন রোগীদের পরিবার। সতর্কবার্তা এইমসের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দেশজুড়ে চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা। উদ্বিগ্ন রোগীদের পরিবার। সতর্কবার্তা এইমসের

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সেমিনার হলে মৃত অবস্থায় পাওয়া ৩১ বছর বয়সী জুনিয়র ডাক্তারের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন চিকিৎসকরা। কর্মবিরতি চলছে। আরজি কর হাসপাতালের সুপার সন্দীপ ঘোষকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে বদলি করার সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এরই মাঝে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার সকাল ১০টার  মধ্যে সমস্ত নথি সিবিআই–এর কাছে হস্তান্তর করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করারও আহ্বান জানিয়েছে।

কলকাতার সব হাসপাতালের চিকিৎসকরা জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা একেবারে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কল্যাণে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য চিকিৎসকদের কাছে আবেদন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সচিব এনএস নিগম বলেন, ‘‌গত কয়েকদিনে আবাসিক ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে রাজ্য জুড়ে চিকিৎসা পরিষেবা দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আমরা কিছু হাসপাতালে সময়মত জরুরি পরিষেবা না পাওয়ার ব্যাপারে রোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাচ্ছি। সব আন্দোলনরত ডাক্তারদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে আসার।’‌

এনএস নিগম আরও বলেন, ‘‌সরকার ঘটনার যথাযথ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করব। নির্যাতিতার বাবা–মাকে নিয়মিত তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট করা হচ্ছে। পুলিশের তৎপরতার কারণে ঘটনার ১২ ঘন্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুধু কলতাতাতেই নয়, জুনিয়র ডাক্তারের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ন্যায় বিচারের দাবিতে গোটা দেশজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছেন চিকিৎসকরা। দিল্লির এইমস–এও স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দিল্লি ছাড়াও পুনের অন্যান্য বড় হাসপাতাল, লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং জয়পুরের সাওয়াই মান সিং মেডিকেল কলেজেও আন্দোলন চলছে। উত্তরপ্রদেশের চিকিৎসকদের এক সংগঠনও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে চিঠি দিয়েছে। পশ্চিমে গ্রেটার নয়ডা থেকে পূর্বে বারাণসী এবং কানপুর, ঝাঁসি, আগ্রা, গোরখপুরের মতো শহরগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।

এদিকে, প্রতিবাদী আবাসিক ডাক্তারদের হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বা তার আশেপাশে বিক্ষোভ করার জন্য সতর্ক করেছে দিল্লির এইমস কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের দাবি, আবাসিক ডাক্তাররা দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশাবলী লঙ্ঘন করেছে, যা আদালত অবমাননার সমান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব বিভাগীয় প্রধান এবং কেন্দ্রীয় প্রধানদের প্রতিদিন বিকেল ৩টের মধ্যে আবাসিক চিকিৎসকদের উপস্থিতি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘‌এইমস কর্তৃপক্ষের এটা দেখা বাধ্যতামূলক যে প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত কেউ ধর্মঘট, বিক্ষোভ বা বিক্ষোভের আশ্রয় নিয়ে কোনও ধরণের বিচ্যুতি না দেখান। যে ব্যক্তি এই ধরনের কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়বে, তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবাসিক ডাক্তারদের আচরণবিধি নেমে চলার জন্য আবেদন করা হচ্ছে।’‌ আচরণবিধি অনুসারে, কর্মচারী বা অনুষদ সদস্যদের কোনও কর্মচারী যে কোনও কারণে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবেন না বা কাজ ব্যাহত করতে পারবেন না।’‌


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!