- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- জানুয়ারি ৮, ২০২৬
জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন শুল্ক চাপের হুমকি, মার্কিন সেনেটে বিল পেশের অপেক্ষায় । কোন পথে মোকাবিলা নয়াদিল্লির
রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ফের চাপে পড়তে পারে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন নিষেধাজ্ঞা বিলের অনুমোদন দেওয়ায় ভারতের উপর আমদানি শুল্কের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে, রাশিয়া থেকে তেল বা ইউরেনিয়াম কেনা দেশগুলোর উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা পাবে ওয়াশিংটন।
রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বিলে ছাড়পত্র মিলেছে। আগামী সপ্তাহেই সেনেটে বিলটি ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে। বিলটি স্পনসর করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল।
গ্রাহামের দাবি, এই আইন কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর ‘অসাধারণ চাপ’ সৃষ্টি করতে পারবেন। উদ্দেশ্য একটাই— রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তা তেল কেনা বন্ধ করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেন শান্তি আলোচনায় নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে রাজি হলেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনও যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে জ্বালানি জোগানো দেশগুলিকে শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে সেনেট ও হাউস নেতৃত্ব এই বিলের ভোট পিছিয়ে দিয়েছিল। কারণ ট্রাম্প তখন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তিনি সরাসরি ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানোর পথেই এগোতে চান। বর্তমানে চিনের পর ভারতই রুশ তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা।
After a very productive meeting today with President Trump on a variety of issues, he greenlit the bipartisan Russia sanctions bill that I have been working on for months with Senator Blumenthal and many others.
This will be well-timed, as Ukraine is making concessions for peace…
— Lindsey Graham (@LindseyGrahamSC) January 7, 2026
এর আগেও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা গেছে। গত বছর ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। পাশাপাশি রুশ তেল কেনার কারণে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক জরিমানা বসানো হয়। ফলে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মোট শুল্কের হার গিয়ে দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। একই সময়ে চিনের উপরও কঠোর অবস্থান নেয় ওয়াশিংটন— চিনা পণ্যের উপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে পাল্টা হিসেবে চিনও মার্কিন পণ্যে ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ফের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারত যদি রুশ তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে নতুন করে শুল্ক চাপানো হতে পারে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানতেন যে আমি এতে খুশি নই।’ গত মাসে তিনি ভারতীয় চাল আমদানির উপরও নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠকে এক মার্কিন কৃষক প্রতিনিধি ভারত, চিন ও থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ডাম্পিংয়ের অভিযোগও তোলেন।
এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা কার্যত থমকে রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, আমেরিকান কৃষিপণ্যের উপর ভারতের শুল্ক কমাতে হবে। তবে নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের কৃষক ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থ রক্ষায় তারা কোনও আপস করবে না। ফলে রুশ তেল, শুল্ক এবং বাণিজ্য— এই তিনটি বিষয় ঘিরে আগামী দিনে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরও জটিল হতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
❤ Support Us







