Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ২৩, ২০২৬

ডাভোসে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানের যোগদান, এড়িয়ে গেল কোন কোন দেশ ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ডাভোসে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডে পাকিস্তানের যোগদান, এড়িয়ে গেল কোন কোন দেশ ?

শুরুতেই প্রশ্নের মমুখে পড়ল গাজার পুনর্গঠন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি বোর্ড। তাঁর এই উদ্যোগের বিশ্বব্যাপী গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত ‘‌শান্তি বোর্ড’‌ উন্মোচন করেন। কিন্তু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ায় ভারত বৈঠক এড়িয়ে গেল। ফলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্দেশ্য এবং বিশ্বব্যাপী সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি বোর্ডের লক্ষ্য হল বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা, প্রাথমিকভাবে গাজার পুনর্গঠনের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। বৃহস্পতিবার ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে এই বোর্ডের প্রথম বৈঠক আহ্বান করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সুইস পর্বতমালার রিসোর্টে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারা দীর্ঘ টেবিলে ট্রাম্পের পাশে বসে সনদে স্বাক্ষর করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ট্রাম্পের পাশে বসেছিলেন। সনদে স্বাক্ষর করার আগে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মোদী ডাভোসে এই শান্তি বোর্ডে যোগ দেননি। শুধু ভারত নয়, আরও বেশ কয়েকটা দেশ বৈঠক থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কয়েক সপ্তাহ পর প্রায় ৩৫টি দেশ এই সনদে স্বাক্ষর করে। ফ্রান্স, ব্রিটেন, চিন এবং জার্মানিও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ভারত প্রস্তাবটি গ্রহণও করেনি, আবার প্রত্যাখ্যানও করেনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এবং অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের যোগদানের পর ভারতের অনুপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দিল্লি এটা খুব একটা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। কারণ দিল্লি বারবার সীমান্ত সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে, যার মধ্যে গতবছর ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলাও অন্তর্ভুক্ত। ০কর্তারা জানিয়েছেন যে, স্পর্শকাতর ভূ–রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে। ভারত ফিলিস্তিন প্রশ্নের দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানকে ধারাবাহিকভাবে সমর্থন করে আসছে। স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তায় ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনের পাশাপাশি বসবাসকে সমর্থন করে।

আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলারুশ, মিশর, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং ভিয়েতনামের পাশাপাশি পাকিস্তানকে শান্তি বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। জার্মানি, ইতালি, প্যারাগুয়ে, রাশিয়া, স্লোভেনিয়া, তুরস্ক এবং ইউক্রেনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ট্রাম্প শান্তি বোর্ডকে একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার লক্ষ্য স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা, আইনসম্মত শাসন পুনরুদ্ধার করা এবং সংঘাত–কবলিত বা হুমকির মুখে থাকা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। ২ বছরের ইজরায়েলি সামরিক অভিযানের পর গাজার পুনর্গঠনের জন্য শাসন তত্ত্বাবধান এবং তহবিল সমন্বয় করার জন্য প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, এর সনদটি একটি বিস্তৃত ম্যান্ডেটের রূপরেখা দেয়। অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ‘‌এই বোর্ডটি সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয়ে গেলে, আমরা যা করতে চাই তা–ই করতে পারব। এবং আমরা জাতিসংঘের সঙ্গে একত্রে এটা করব। এই বোর্ডের সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্প এবং শীর্ষ পর্যায়ে কেবলমাত্র রাষ্ট্রপ্রধানরা থাকবেন। ওয়াশিংটন বলেছে যে এটা ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যার মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলটিকে একটি উগ্রপন্থী, সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এবং এখানকার বাসিন্দাদের সুবিধার্থে এটি পুনর্গঠন করা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!