Advertisement
  • বি। দে । শ
  • নভেম্বর ৭, ২০২৬

মার্কিন আকাশে ট্রাম্পের ‘ডুমসডে প্লেন’? পরমাণু হামলা প্রতিরোধী বিমানকে ঘিরে নয়া রণ জল্পনা !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মার্কিন আকাশে ট্রাম্পের ‘ডুমসডে প্লেন’? পরমাণু হামলা প্রতিরোধী বিমানকে ঘিরে নয়া রণ জল্পনা !

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিশেষ বিমান, যা পরমাণু হামলার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে, বৃহস্পতিবার আমেরিকার আকাশে উড়তে দেখা গিয়েছে। বোয়িং ই-৪বি নাইটওয়াচ (Boeing E-4B Nightwatch) নামে পরিচিত এই বিমানটি ‘ডুমসডে প্লেন’ (Doomsday Plane) নামেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার বিমানটিকে আমেরিকার আকাশে উড়তে দেখা যায়। নেব্রাস্কায় অবস্থিত নিজস্ব ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে বিমানটি পূর্ব দিকে এগিয়ে যায়। তবে ঠিক কী কারণে বিমানটিকে পাঠানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ই-৪বি  নাইটওয়াচ বিমানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনও জাতীয় জরুরি পরিস্থিতি বা ভয়াবহ পারমাণবিক হামলার সময়ও এটি আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের জন্য একটি আকাশপথে পরিচালিত সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করতে পারে। এখান থেকেই প্রেসিডেন্ট ও সামরিক নেতৃত্ব মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন।

বিমান চলাচলের তথ্য বা ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমানটি ওমাহার কাছে অবস্থিত অফাট এয়ার ফোর্স বেস (Offutt Air Force Base) থেকে উড়েছিল। এরপর সেটি আমেরিকার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশপথ অতিক্রম করে। এই বিমানঘাঁটিতে একাধিক E-4B বিমান রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিমানটির এই যাত্রা নিয়মিত সামরিক মহড়া বা প্রশিক্ষণের অংশও হতে পারে।

ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিমানটিকে ওয়াশিংটন ডিসি-র পশ্চিম দিকে উত্তর ভার্জিনিয়ার আকাশে দেখা গিয়েছে। এরপর সেটি দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। তবে ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের ছবিতে বিমানটির কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বিমানের যাত্রাপথ দেখে এটি কোথায় অবতরণ করবে কিংবা কী কারণে বিমানটিকে পাঠানো হয়েছে, সে সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এই বিমানে কারা রয়েছেন অথবা কী কারণে এটি বর্তমানে আকাশে উড়ছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মার্কিন প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ইউএস’ (The Express US) হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

ই-৪বি  নাইটওয়াচ বিমানটি অত্যাধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিশেষ সামরিক ব্যবস্থায় সজ্জিত। ভয়াবহ পারমাণবিক হামলার ফলে সৃষ্ট বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও বিমানটির কার্যক্ষমতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক পালস (EMP) যাতে বিমানের যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে না পারে, সেভাবেও এটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিমানটি মাঝ আকাশেই অন্য বিমানের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে অবস্থান করা সম্ভব। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিমান সর্বোচ্চ ৩৫.৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় কার্যকর থাকতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখনই আমেরিকার অভ্যন্তরে থাকেন, তখনই এই বিমানটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়। অফাট এয়ার ফোর্স বেস থেকে যেকোনও মুহূর্তে বিমানটিকে মোতায়েন করা সম্ভব।

ট্রাম্পের এই বিশেষ বিমানের উড়ান ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ, এই বিমানটির উড়ানের খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণ আগেই ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এক আকস্মিক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে তাঁর কড়া অবস্থানের কথা জানান। ওই সময় তিনি ওভাল অফিস এবং ক্যাবিনেট রুমকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ঘোষণা করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।

সেখানেই ইরানকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেন, তিনি সম্ভব হলে দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। কিন্তু প্রয়োজন হলে হয়তো তাঁকে সেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। ট্রাম্পের কথায়, “সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে সেটা করতে হবে। খুব শীঘ্রই আপনারা সব জানতে পারবেন।”

এরপর মার্কিন সামরিক শক্তি নিয়েও বড়সড় মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, আমেরিকার সামরিক বাহিনী এখন আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যায় অস্ত্র তৈরি করছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (Locked and Loaded) অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ, প্রয়োজন হলেই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অবরোধ অভিযান অত্যন্ত সফল হয়েছে। তাঁর দাবি, আমেরিকা হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। আন্তর্জাতিক তেল পরিবহণের একটি বড় অংশ এই জলপথের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের উপর পড়তে পারে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের এতটাই ক্ষতি হয়েছে যে দেশটিকে পুনর্গঠন করতে অন্তত ২৫ বছর সময় লাগবে।

ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত কঠোর হুঁশিয়ারি এবং একই সময়ে আমেরিকার ‘ডুমসডে প্লেন’-এর উড়ান—এই দুই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, ই-৪বি  নাইটওয়াচ বিমানের উড়ান মানেই যে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

বিমানটি নিয়মিত সামরিক মহড়া, প্রশিক্ষণ অথবা অন্য কোনও সরকারি প্রয়োজনে উড়ে থাকতে পারে। বিমানটির প্রকৃত উদ্দেশ্য, গন্তব্য এবং তাতে কারা রয়েছেন, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তাই আপাতত গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের পরিস্থিতির দিকে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!