- এই মুহূর্তে দে । শ
- নভেম্বর ৭, ২০২৬
সরকারি প্রকল্পে গতি আনতে বড়ো সিদ্ধান্ত নবান্নের, ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের ক্ষমতা পেল ছয় দফতর
সরকারি প্রকল্পের অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের কাজে গতি আনতে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতদিন প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার বেশি খরচ করতে হলে অর্থদপ্তরের অনুমোদনের প্রয়োজন হত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ শুরু বা বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটত। সেই সমস্যা দূর করতেই এবার বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন ও আর্থিক মঞ্জুরি দেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের অর্থদপ্তর।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূর্ত, সেচ ও জলপথ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পুর ও নগরোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন—এই ছয়টি দপ্তর সর্বোচ্চ ৬ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক মঞ্জুরি দিতে পারবে। আগে এই দপ্তরগুলির ক্ষেত্রে অনুমোদনের আর্থিক সীমা ছিল সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় এই ছয় দপ্তরের আর্থিক ক্ষমতা দ্বিগুণ করা হল।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন, পুর ও নগরোন্নয়ন সংক্রান্ত অন্যান্য দপ্তর এবং সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তরের আর্থিক অনুমোদনের সীমা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। আগে এই দপ্তরগুলির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা ছিল।
এছাড়া, রাজ্যের বাকি সমস্ত দপ্তর এবার থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদন ও আর্থিক মঞ্জুরি দিতে পারবে। এতদিন এই দপ্তরগুলির ক্ষেত্রে সেই সীমা ছিল ৭৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ এই ক্ষেত্রেও অনুমোদনের আর্থিক সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে।
তবে আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানো হলেও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়ার আগে নিজেদের বাজেট বরাদ্দ, চলতি প্রকল্পগুলির আর্থিক দায়বদ্ধতা এবং দপ্তরের আর্থিক উপদেষ্টার সম্মতির বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি সংশোধিত প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে।
রাজ্য সরকারের আশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে ছোট ও মাঝারি প্রকল্পের অনুমোদনের জন্য বারবার উচ্চতর কর্তৃপক্ষ বা অর্থদপ্তরের দ্বারস্থ হতে হবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি নিজেদের বর্ধিত আর্থিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দ্রুত প্রকল্পের অনুমোদন দিতে পারবে। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা কমার পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের কাজের গতি বাড়বে এবং উন্নয়নমূলক কাজ আরও দ্রুত বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।
অর্থদপ্তরের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
❤ Support Us








