Advertisement
  • দে । শ
  • জুলাই ২, ২০২৫

মন ভালো রাখতে শ্রীখণ্ড স্কুলে চালু ‘মনের ঠিকানা’

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মন ভালো রাখতে শ্রীখণ্ড স্কুলে চালু ‘মনের ঠিকানা’

মনের জানলা খুলে যাক। মনের গহন খাঁজে জমে থাকা সমস্যা, অভিমান, অভিযোগ উজাড় করে দিক ছাত্রীরা। তারপর সেই কথামালা জমা হোক নির্দিষ্ট ড্রপবক্সে। ড্রপ-বক্সের চাবি থাকবে প্রধানশিক্ষিকার কাছে। সপ্তাহে একদিন খোলা হবে। সবরকমের গোপনীয়তা বজায় রেখেই জানা হবে ছাত্রীদের মনের কথা। তারপর সেগুলি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুসারে কাউন্সেলিং বা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বের করা হবে সমাধানসূত্র। বুধবার ‘মনের ঠিকানা’ নামে এমনই একটি ‘ড্রপবক্স’ এবার বসানো হল কাটোয়া ১নং ব্লকের শ্রীখণ্ড ঊষাঙ্গিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। সংশ্লিষ্ট কাটোয়া পশ্চিম চক্রের বিদ্যালয় পরিদর্শক ফ্যান্সি মুখার্জি মনে করেন, ‘ড্রপবক্স পদ্ধতি প্রয়োগে ছাত্রীদের মনের ভার হালকা হবে। সমস্যা কাটিয়ে ফের সুস্থ, সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে ছাত্রীরা।’ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনের মুখে। কারণ স্মার্ট ফোন, ফেসবুক-সহ বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক কারণে ইদানিং নানা সমস্যার শিকার হচ্ছে ছাত্রীরা। অনেক নাবালিকাই বিয়ের ফাঁদে পড়ছে। সেইসব সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারলে তারা অনেকটাই হালকা হবে। চাপ কমবে। উল্লেখ্য যে, ফ্যান্সিদেবীর নেতৃত্বে কিছুদিন ধরে গোটা কাটোয়া পশ্চিম চক্রজুড়ে স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরানোর ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে জোরকদমে। রোজই স্কুলছুটদের স্কুলের আঙিনায় ফেরাতে বাড়ি বাড়ি ঢুকে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাতে ফলও মিলছে।

স্কুলছুটদের ফেরাতে স্কুলে স্কুলে চলছে সচেতনতা শিবিরও। সেখানে উঠে আসছে বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা, মানসিক পরিবর্তন, অভিভাবকদের উচ্চাশার চাপ, এন্ড্রয়েড ফোনের কুপ্রভাবে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়া, বহু ছাত্রীর প্রেমের টোপ গিলে সর্বস্ব হারানো বা অনেক সফল সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটার প্রসঙ্গ। এইসব বিষয়কে সামনে রেখে এদিন একটি আলোচনাচক্র আয়োজিত হয় ঊষাঙ্গিনী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। সেইসঙ্গে ছিল বাল্যবিবাহ রোধ ও অল্পবয়সে গর্ভধারণ বিষয়ক সচেতনতা। গোটা বিষয়টির উপর আলোকপাত করেন কালনা মহকুমা হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট পূজা মুখার্জি। সেখান থেকেই ‘মনের ঠিকানা’ ড্রপ-বক্সের আত্মপ্রকাশ। অনেক ছাত্রী তাদের চাপা স্বভাবের জন্য তাদের সমস্যা বা মনের কোনও গোপন কথা কাউকে বলতে পারে না। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ড্রপ-বক্স ভাবনার বাস্তবায়ন। নানান সমস্যার কারণে যারা স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে, সমস্যা মিটলে তারা আবার স্কুলে আসবে। স্কুলেই মনের ঠিকানা খুঁজে পাবে।

ছাত্রীদের পাশাপাশি তামাম কাটোয়া মহকুমাজুড়ে ছাত্রদের স্কুলছুট হওয়ার কারণ হিসেবে যেসব তথ্যগুলো সামনে আসছে, সেগুলি হল, দরিদ্র পরিবারের পড়ুয়ারা ভিনরাজ্যে শ্রমিক-মজুরের কাজে মোটা টাকার টোপ, রোজগার করে সংসারের দেনা শোধ করা থেকে শুরু করে দামি মোবাইল বা বাইক কেনার শখ মেটানো প্রভৃতি। তবে এইসব যুবকেরা বাড়ি ফিরলেই সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত যাতে ব্লকে খবর দেয়, তার নির্দেশিকা জারি করেছেন কাটোয়া ১নং ব্লকের বিডিও ইন্দ্রজিৎ মারিক। তাঁর উদ্যোগে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করা কিশোর-তরুণরা বাড়ি পৌঁছতেই হাজির হচ্ছেন পঞ্চায়েত, প্রশাসন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধিরা। বুঝিয়েসুজিয়ে ফের স্কুলমুখী করছেন। কাস্তে-হাতুড়ি ফেলে আবার তারা বই-খাতা-পেন হাতে তুলে নিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!