- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫
নির্বাচন এলেই বঙ্গে সফর ‘দুর্যোধন’, ‘দুঃশাসন’-এর, বাকুড়া থেকে শাহকে কটাক্ষ মমতার
বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি। তার আগেই ফের পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফর ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ। বাঁকুড়ায় শাহের সভার পাল্টা জবাবে নাম না করেই তাঁকে ‘দুর্যোধন’, ‘দুঃশাসন’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়ার বড়জোড়ার সভা থেকে এই মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোট এলেই দুর্যোধন, দুঃশাসনরা আসে।” অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। মমতার প্রশ্ন, “বাংলাতেই শুধু অনুপ্রবেশ হচ্ছে? কাশ্মীরে হচ্ছে না ? তাহলে পহেলগাঁও হামলা কে করল ? দিল্লি বিস্ফোরণ কে করল? আপনারা করলেন ?”
প্রসঙ্গত, এদিন সকালেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান অমিত শাহ। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না। রাজ্যে এসে আবারও ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এস আই আর এর নাম গরিব সাধারণ মানুষদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন যে ৪৬ জন এস আই আর-এর আতঙ্কে মারা গেছে তার দায় কে নেবে ? শুনানির নাম প্রবীণদের ডেকে পাঠিয়ে হয়রান করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”যাদের নাম তালিকায় থাকবে না তারা ৬ নম্বর ফর্ম ফিল আপ করে নেবেন।”
এই বক্তব্যের পাল্টা কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভোট এলেই সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে। সোনার বাংলা নয়, ধ্বংসের বাংলা গড়বে তোমরা।” পাশাপাশি বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলা বললেই বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করা হচ্ছে।
অমিত শাহের সফর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাইলে আপনাকে এক পা-ও বেরোতে দিতাম না, কিন্তু এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।”
সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে রাজ্য জমি দিচ্ছে না—অমিত শাহের এই অভিযোগও খারিজ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “আমি জমি না দিলে রেল, কয়লা প্রকল্প হল কী করে?”
বাঁকুড়ার সভা থেকে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালানো হবে। বিজেপির অভিযোগ ও প্রতিশ্রুতিকে ‘ভোটের সময়ের বুলি’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি রাজ্যের উন্নয়ন ও সংস্কৃতির কথাই তুলে ধরেন।
❤ Support Us







