- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬
ভোটার তালিকায় বিদেশিদের নাম থাকলে কঠোর ব্যবস্থা, ৭ জেলাশাসককে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন
চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও রকম গরমিল বরদাস্ত করবে না ভারতের নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে কোনও বিদেশি নাগরিক যাতে চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-এর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) দফতর ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও বিদেশি নাগরিকের নাম যদি পাঁচ বছর পরেও শনাক্ত হয়, তা হলেও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি বহু বছর ধরে সংরক্ষণ করবে কমিশন। ফলে ভবিষ্যতেও দায় এড়ানো যাবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।
কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও), ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিক (ইআরও) এবং সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকেরা (এইআরও)। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় গলদ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এমনকি কোনও আইএএস আধিকারিকের দীর্ঘ কর্মজীবনেও তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
শুক্রবারের বৈঠকে অন্তত সাতটি জেলার জেলাশাসক কমিশনের তোপের মুখে পড়েছেন। এসআইআরের নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করতে দেরি হওয়ায় ভর্ৎসিত হয়েছেন কোচবিহার-এর জেলাশাসক। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছেন জলপাইগুড়ি, মালদহ, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর-এর জেলাশাসকেরা। এছাড়া পূর্ব বর্ধমান-এর জেলাশাসককে রাজনৈতিক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই এসআইআরের শুনানি পর্ব শেষ হয়েছে। বর্তমানে নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাইক্রো অবজ়ার্ভার নিয়োগ করেছে কমিশন। তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও কোনও ডিইও, ইআরও বা এইআরও নিয়ম ভাঙলে বা ভুল করলে তা সরাসরি কমিশনকে জানাতে হবে।
বৈঠকে উঠে এসেছে, অনেক ক্ষেত্রে শুনানিতে জমা পড়া নথি অপাঠ্য বা অস্পষ্ট। কোথাও সংবাদপত্রের কাটিং, ফাঁকা পৃষ্ঠা বা ঝাপসা ছবি নথি হিসেবে আপলোড করা হয়েছে। এমন নথি কীভাবে গ্রহণ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। ভুয়ো বা তৈরি করা নথি আপলোড করা হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, শুনানিতে জমা পড়া সমস্ত নথি কমিশন-অনুমোদিত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের ব্যক্তিগত ভাবে নথি যাচাই করে নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ওই সময়ের পর যদি কমিশনের সিস্টেমে কোনও অননুমোদিত নথি পাওয়া যায়, তা হলে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে ব্যক্তিগত ভাবে দায়ী করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন সদন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় কোনও রকম ত্রুটি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
❤ Support Us







