Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • নভেম্বর ৩, ২০২৫

জাল পাসপোর্ট মামলায় নদীয়ায় ইডির অভিযান, আটক তিন। পাক-যোগের সন্দেহ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাল পাসপোর্ট মামলায় নদীয়ায় ইডির অভিযান, আটক তিন। পাক-যোগের সন্দেহ

চিত্র সংগৃহিত

নদীয়ার চাকদহে সোমবার ভোরবেলার হাজির ইডি কর্মকর্তারা। না, কোনো নেতা-মন্ত্রী বা ব্যবসায়ীর বিলাসবহুল বাড়িতে নয়, টিনের চালের সাধারণ একটি বাড়িতে। অভিযুক্তরা পেশায় কাঠমিস্ত্রি ও রাজমিস্ত্রী। এমনই ‘সাধারণ’ নাম উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তদন্তে। প্রাথমিকভাবে ধৃত তিনজন—বিপ্লব, বিপুল ও বিনন্দ সরকার। তাঁদের সঙ্গে বাড়ির বাবা থেকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

এদিন কেন্দ্রীয় জওয়ান সহ চারটি গাড়িতে করে চাকদহে এসে পৌঁছান ইডি আধিকারিকরা। চাকদহের দুবড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পড়ারি গ্রামে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়ি তল্লাশি চলে। পাসপোর্ট, ব্যাঙ্ক নথি, মোবাইল ফোন, সবকিছুই খতিয়ে দেখা হয়। সূত্রের খবর, ধৃতদের নাম ভুয়ো নথি বানানোর তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই অভিযান ভুয়ো পাসপোর্ট ও আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষত ভারতের জেলে বন্দি পাকিস্তানি নাগরিকদের সঙ্গে চাকদহের এই দুই ভাইয়ের যোগাযোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাশাপাশি ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত বছরের শেষ দিকে প্রকাশ্যে আসে ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরির একটি বড়ো চক্র। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল বিরাটি থেকে গ্রেপ্তার হন আজাদ মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। পরে তার আসল নাম প্রকাশ পায়, আহমেদ হোসেন, যিনি পাকিস্তানি নাগরিক। বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে তিনি কাঁচরাপাড়ার একটি সাইবার ক্যাফে থেকে পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথি জাল করতেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের নথি উদ্ধার হয়। আজাদের ওই চক্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন ইন্দুভূষণ হালদার। চাকদহে তাঁর একটি সাইবার ক্যাফে ছিল। এই সাইবার ক্যাফের মাধ্যমে চলত একের পর এক জাল পাসপোর্টের ব্যবসা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ইন্দুভূষণের ফোন থেকে দেখা গেছে, আজাদের সঙ্গে প্রায় ৫৫৭ বার যোগাযোগ হয়েছে। সূত্র ধরেই এবার খোঁজ মিলেছে বিপ্লব ও বিপুলের।

ইডির দাবি, বিপ্লবের সঙ্গে ইন্দুভূষণের ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র ছিল। তদন্তকারীরা ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, পাসপোর্ট, মোবাইল কললিস্টের তথ্য যাচাই করে দেখছেন, এই পরিবারের কেউ কি ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও সীমান্ত চোরাপথে তথ্য বা অর্থ পাচারের সঙ্গে তাঁদের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সকালে হানার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এর আগেও চাকদহে অন্তত ৩ বার হানা দিয়েছিল ইডি। বর্তমানে তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাকিস্তানি নাগরিক আজাদ, ইন্দুভূষণ ও চাকদহের এই তিনজনের যোগসূত্র মিলিয়ে আন্তর্জাতিক জাল পাসপোর্ট চক্র এবং অর্থ পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্কের হদিস মিলতে পারে। ইডির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘এসআইআর-এর আবহে প্রেক্ষিতে এই অভিযান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পাসপোর্ট জালিয়াতি থেকে সীমান্তপারের যোগাযোগ—সব দিকই আমরা খতিয়ে দেখছি। আগামী দিনগুলোতে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরোতে পারে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!