Advertisement
  • স্মৃ | তি | প | ট
  • আগস্ট ১৪, ২০২৬

প্রয়াত ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার

প্রয়াত প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।

১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন সুমিত সরকার। বাবা সুশোভন সরকারও ছিলেন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ। ইতিহাসচর্চার পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনাও করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন অধ্যাপক সুমিত সরকার। তাঁর পাণ্ডিত্যের খ্যাতি শুধু দেশের গণ্ডিতেই আটকে ছিল না। অক্সফোর্ডের উলফসন কলেজের ফেলো হন তিনি। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও বহু ক্লাস নিয়েছেন।

অধ্যাপনার পাশাপাশি তাঁর অক্লান্ত কাজের জায়গা ইতিহাসের গবেষণা। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য স্বদেশী মুভমেন্ট ইন বেঙ্গল’, ‘মডার্ন ইন্ডিয়া: ১৮৮৫–১৯৪৭’ এবং ‘রাইটিং সোশ্যাল হিস্ট্রি’। এই কাজগুলো তাঁকে উপনিবেশবাদ, জাতীয়তাবাদ এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের বিষয়ে একজন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। স্বদেশি আন্দোলনের ইতিহাসচর্চার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত সুমিত সরকারের নাম। তাঁর ‘স্বদেশি মুভমেন্ট ইন বেঙ্গল’ গ্রন্থটিকে এই সংক্রান্ত ইতিহাসের আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করে চর্চাজগৎ।

একজন মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিক হিসেবে স্বদেশী আন্দোলন বিষয়ক গবেষণার জন্য পরিচিত সুমিত সরকার। তাঁর লেখনীতে মার্কসীয় ঘরানার ছাপ দৃশ্যমান থাকলেও পরবর্তী কালে ‘সাবঅলটার্ন স্টাডিজ়’ বা নিম্নবর্গের ইতিহাসচর্চার প্রাথমিক পর্বের প্রবক্তা হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু পরে নিজেই হয়ে ওঠেন এই বিদ্যাচর্চার সমালোচক। স্ত্রী তানিকা সরকারের সঙ্গে যৌথভাবেও সম্পাদনা করেছেন বেশ কিছু গ্রন্থ। যার মধ্যে ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘উইমেন অ্যান্ড সোশ্যাল রিফর্ম ইন মডার্ন ইন্ডিয়া’ এবং ২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘কাস্ট ইন মডার্ন ইন্ডিয়া’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি ২০০৪ সালে ‘সামাজিক ইতিহাস রচনার’ জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করে। ২০০৭ সালে বামফ্রন্ট সরকারের কৃষকদের জমি অধিগ্রহণের প্রেক্ষিতে তিনি সে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় ইতিহাসচর্চার জগতে তৈরি হলো এক অপূরণীয় শূন্যতা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!