Advertisement
  • স্মৃ | তি | প | ট
  • জুন ১, ২০২৬

প্রয়াত কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী সুমন কল্যাণপুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্রয়াত কিংবদন্তি প্লেব্যাক শিল্পী সুমন কল্যাণপুর

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রবীণ প্লেব্যাক শিল্পী সুমন কল্যাণপুর আর নেই। রবিবার মুম্বইয়ের লোখান্ডওয়ালায় নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বার্ধক্যজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় সঙ্গীত মহলে।

সুমনের মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন শরদ পাওয়ার। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “প্রবীণ প্লেব্যাক গায়িকা সুমন কল্যাণপুরের প্রয়াণ সংবাদ অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাঁর মিষ্টি, সুমধুর ও হৃদয়স্পর্শী কণ্ঠ ভারতীয় সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

১৯৩৭ সালের ২৮ জানুয়ারি অবিভক্ত বাংলার ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন সুমন কল্যাণপুর। তাঁর পিতা শঙ্কর রাও হেমাডি এবং মাতা সীতা হেমাডি। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ। ১৯৪৩ সালে পরিবারসহ তৎকালীন বম্বে (বর্তমান মুম্বই)-এ চলে আসেন এবং সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

শৈশবে গায়িকা হওয়ার কোনও স্বপ্ন ছিল না সুমনের। ছবি আঁকা, সেলাই করা এবং বাগান পরিচর্যাতেই বেশি আগ্রহ ছিল তাঁর। শিল্পকলার প্রতি সেই অনুরাগ থেকেই তিনি স্কুলজীবন শেষে ভর্তি হন Sir J. J. School of Art-এ। তবে কৈশোরে নূরজাহান-এর গান শুনে সঙ্গীতের প্রতি আকর্ষণ জন্মায়। স্কুল ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে শুরু করেন তিনি।

একটি অনুষ্ঠানে তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হন প্রখ্যাত মরাঠি সঙ্গীত পরিচালক কেশবরাও ভোলে। তিনি সুমনের বাবা-মাকে মেয়ের প্রতিভা বিকাশের পরামর্শ দেন এবং নিজেই তাঁকে সঙ্গীত শিক্ষা দিতে শুরু করেন। কেশবরাওয়ের পরামর্শেই সুমন লাইট মিউজিকের দিকে মনোনিবেশ করেন, যা পরবর্তীতে তাঁর সাফল্যের প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯৫২ সালে আকাশবাণী-তে প্রথম গান পরিবেশন করেন তিনি। এরপর ১৯৫৩ সালে মরাঠি চলচ্চিত্র শুকরচি চাঁদনি-তে এবং ১৯৫৪ সালে হিন্দি ছবি মঙ্গু-তে প্রথম প্লেব্যাক করেন।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি কাজ করেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের বহু কিংবদন্তি সুরকারের সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শঙ্কর-জয়কিষণ, রোশন, মদন মোহন, শচীন দেব বর্মণ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ও. পি. নায়ার এবং নৌশাদ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তাঁর এবং মহম্মদ রফি-র জুটি। তাঁরা একসঙ্গে প্রায় ১৪০টি ডুয়েট গান গেয়েছেন। তাঁদের জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে আজকাল তেরে মেরে প্যায়ার কে চর্চে এবং না না কর কে প্যায়ার। এছাড়াও তিনি ডুয়েট গেয়েছেন মান্না দে এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়-এর মতো শিল্পীদের সঙ্গে।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৫৮ সালে মুম্বইয়ের ব্যবসায়ী রামানন্দ কল্যাণপুর-কে বিয়ে করেন সুমন। রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাহের পর তাঁর সঙ্গীতজীবনে কোনও বাধা আসেনি। বরং স্বামী রামানন্দ প্রায়শই তাঁর সঙ্গে রেকর্ডিং স্টুডিওতে যেতেন এবং পাশে থাকতেন। তাঁদের একমাত্র কন্যা চারুলা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।

সুমন কল্যাণপুরের সুরেলা কণ্ঠ, অসংখ্য কালজয়ী গান এবং ভারতীয় সঙ্গীতে তাঁর অনন্য অবদান আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীতজগত এক মূল্যবান অধ্যায় হারাল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!