- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ৯, ২০২৫
জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই, অব্যাহত অভিযান
বুধবার জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় দুই থেকে তিনজন সন্ত্রাসীকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে নিরাপত্তা বাহিনী। উদমপুর পুলিশ একটি পোস্টে-এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘বুধবার সকালে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনী তিনজন জঙ্গিকে ধরবার চেষ্টা করছে। পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা একটি অনুসন্ধান অভিযানে, উধমপুর জেলার রামনগর থানার জোফার গ্রামে জঙ্গীদের সাথে গুলির লড়াই শুরু হয়।
ডিআইজি উদমপুর-রেসি রেঞ্জ রায়েস মোহাম্মদ ভাট জানিয়েছেন, ‘অন্তত দুই থেকে তিনজন জঙ্গীকে এই মুহূর্তে ঘেরাও করে রেখেছে সেনা জওয়ানরা। উভয় পক্ষের মধ্যে লাগাতার গোলাগুলি চলছে । জম্মু -কাশ্মীর পুলিশ আর অন্যান্য বাহিনীর যৌথ অনুসন্ধান অভিযানে জঙ্গীদের খোঁজ মেলে। জানা যাচ্ছে, জঙ্গীদের উপস্থিতির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে, এ দিন নিরাপত্তা বাহিনী একটি যৌথ অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময়, আচমকা জঙ্গীরা নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর গুলি চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী দৃঢ়ভাবে পাল্টা জবাব দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে উধমপুরের সংঘর্ষের পরে, কিশতওয়ার জেলার চত্রু বনাঞ্চলেও আরেকটি গুলিবিনিময় শুরু হয়। সেই দুর্গম এলাকায় এখনও সংঘর্ষ হয়ে চলেছে। শ্রীনগরে, এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘দুর্গম এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা হওয়াতে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য আসে নি। আমরা আরো বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ, জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলার হিরানগর এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অনুসন্ধান চলাকালীন এরকমই একটি সংঘর্ষ বেধেছিল। আচমকা জঙ্গীরা গুলি চালাতে থাকে। পরে, জম্মু এবং কাশ্মীর পুলিশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর রাইজিং স্টার কোর্পস যৌথভাবে জঙ্গীদমনে অভিযান শুরু করে। ওই সংঘর্ষে ৩ জন জঙ্গী নিহত হন। ৪ জন পুলিশও কর্মী নিহত হয়েছিলেন। গত কয়েকমাসে একাধিকবার জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা ঘটেছে। সম্প্রতি রাজৌরি এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়ি লক্ষ করে গুলিবৃষ্টি করে জঙ্গিরা। প্রত্যুত্তরে সেনাবাহিনী প্রতিরোধ শুরু করে। ভূ-স্বর্গে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে বারবার করে উঠে এসেছিল নিরাপত্তার প্রশ্ন। কিছুদিন আগেই সোপোরের জালোরা গুজ্জরপতি এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে এক সেনাজওয়ান শহীদ হয়েছিলেন। গুলমার্গেও হামলা হয়েছিল সেনার উপর। সোনমার্গে সাধারণ মানুষের উপরেও গুলি চালিয়েছিল সন্ত্রাসবাদীরা, মারা গিয়েছিলেন চিকিৎসক সহ ৭ জন। লস্কর-এ তইবা, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, জইশ-এর মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সক্রিয় প্রভাব এখনো রয়ে গিয়েছে ভূ- স্বর্গে। প্রায়ই ভারতীয় সেনার অভিযানে ধরা পড়ে একাধিক জঙ্গি, কখনো চলে গুলির লড়াই।
❤ Support Us







