Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

ভারত ও শ্রীলঙ্কার জলসীমায় পরপর মৎস্যজীবী আটক, উপকূলীয় নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ  

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারত ও শ্রীলঙ্কার জলসীমায় পরপর মৎস্যজীবী আটক, উপকূলীয় নিরাপত্তা ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ  

আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে মৎস্যজীবী আটকের ঘটনা ঘিরে আবারও উত্তেজনা উপকূলজুড়ে। একদিকে যেমন শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের আটক করা হয়েছে, তেমনই বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়ার অভিযোগে ২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকেও আটক করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী। পরপর এই দুই ঘটনার জেরে উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক মহলে।

রবিবার গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল ভারতীয় কোস্ট গার্ডের একটি দল। সে সময় ভারতীয় জলসীমার মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় একটি ট্রলারকে। উপকূলরক্ষীদের দাবি, সংকেত দেওয়া সত্ত্বেও ট্রলারটি দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে। তাতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। ধাওয়া করে ট্রলারটিকে আটক করা হয়। পরে জানা যায়, সেটি বাংলাদেশি ট্রলার ‘সাগর–৩’। ট্রলার থেকে ২৮ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে আটক করা হয়। তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। সোমবার সকালে ধৃতদের ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে নিয়ে এসে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে সুন্দরবন জেলা পুলিশের অধীনস্ত ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাঁদের কাকদ্বীপ কোর্টে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, মাছ ধরার আড়ালে এক বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতে অনুপ্রবেশ করানোর পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক জেরায় ধৃতদের কয়েকজন জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ দাস নামে এক ব্যক্তিকে ট্রলারে করে ভারতীয় জলসীমায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। যদিও ধৃত মৎস্যজীবীদের একাংশের দাবি, তাঁরা মাছ ধরতে গিয়ে ভুলবশত সীমান্তের কাছে চলে এসেছিলেন। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর জানান, এটি কোনো সংগঠিত অনুপ্রবেশ চক্রের অংশ কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতে এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ভোটের আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলেই মনে করছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ভারত–বাংলাদেশ সামুদ্রিক সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে প্রায় একই সময়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সীমারেখা অতিক্রম করার অভিযোগে ২৫ জন ভারতীয় মৎস্যজীবীকে আটক করেছে শ্রীলঙ্কার নেভি। দুটি ভারতীয় মাছধরার নৌকাও আটক করা হয়েছে। আটক মৎস্যজীবীদের মধ্যে তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনম, ময়িলাদুথুরাই এবং কারাইকাল এলাকার বাসিন্দারা রয়েছেন। তাঁদের শ্রীলঙ্কার কঙ্কেসানথুরাই নৌঘাঁটিতে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনকে ঘিরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নতুন নয়। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় জেলেদের অজান্তে আন্তর্জাতিক সীমারেখা পেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ যেমন ওঠে, তেমনই নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে ভারত মহাসাগর— উপকূল জুড়ে নজরদারি আরও কড়া করবার, পাশাপাশি, ভারতীয় মৎসজীবীদের আন্তর্জাতিক জলসীমা সম্পর্কে অবগত করবার উপরই জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!