- দে । শ
- ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪
পাওনাদারদের থেকে রেহাই পেতে ছিনতাইয়ের নাটক, পুলিশের জালে স্বর্ণব্যবসায়ী
ব্যবসায় লোকসান রুখতে প্রচুর টাকা ধারদেনা হয়ে যায় মন্তেশ্বরের কুলে গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী আলমগীর শেখের। পাওনাদারদের তাগাদায় অতিষ্ঠ হয়ে নয়া ফন্দি আঁটে আলমগীর। দোকানের সমস্ত সোনা, রুপোর গহনা ছিনতাইয়ের নাটক করে। যদিও শেষরক্ষা হল না। ‘চুরি’ যাওয়া গহনা-সহ ২ দুষ্কৃতী-সহ ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্তেশ্বরের জামনা পঞ্চায়েতের কুলে গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর শেখের নাদনঘাট বাজারে একটি সোনার দোকান রয়েছে। আলমগীর পুলিশের কাছে গিয়ে সাজানো অভিযোগ করেন, দিন তিনেক আগে রাতে নাদনঘাট থেকে তার কর্মচারী মুনশি হাইবুলকে মোটরবাইকে চাপিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুলে বাজারের কাছে তিন দুষ্কৃতী বাইক আটকায়। হাইবুলকে মারতে মারতে দুষ্কৃতীরা মাঠের দিকে নিয়ে যায়। পরে ছেড়ে দিলে হাইবুল ঘুরে আসে ঘটনাস্থলে। এসে দেখে আলমগীর রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে। এরপরেই আলমগীর জানায়, দুষ্কৃতিরা তার সোনা ও রুপোর গহনা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে নাদনঘাট থানা এলাকার দুই দুষ্কৃতী শাহজামাল শেখ ও বাগবুল মল্লিককে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া বেশ কিছু গহনাও উদ্ধার করে। কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক তাদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। তাদেরকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, এই ঘটনার মূল চক্রী আর কেউ নয়, স্বর্ণ ব্যবসায়ী আলমগীর শেখ নিজেই। এরপরেই পুলিশ আলমগীর শেখকে গ্রেফতার করে। ‘চুরি’ যাওয়া কিছু গহনাও তার কাছ থেকে উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আলমগীর ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে শাহজামাল শেখের শরণাপন্ন হয়। তার বুদ্ধিতেই এই নাটক তৈরি হয়। আলমগীরের কর্মচারী হাইবুলকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে আলমগীরকে সে বারবার সচেতন করে যে, তাদের কেউ পিছু নিয়েছে। তাতে আলমগীর কর্ণপাত করেনি। কারণ ভিতরে-ভিতরে আলমগীরের ছিনতাইয়ের ছক তৈরি করা ছিল। রাস্তায় শুয়ে পড়ে ওই কর্মচারীকে তাড়া করে নিয়ে যাওয়াটাও চূড়ান্ত পর্যায়ের নাটক বলে জানতে পারে পুলিশ।
❤ Support Us






