- এই মুহূর্তে ন | ন্দ | ন | চ | ত্ব | র
- অক্টোবর ২৪, ২০২৫
চেনা শত্রুদের অচেনা কাহিনী, জি-ফাইভে আসছে পাওলি-রুদ্রনীলদের ‘গণশত্রু’
অপরাধের অন্ধকার জগতের ছায়া ছায়া গল্প, তার থেকেও নিকষ চরিত্রেরা আবার উঠে আসবে পর্দায়। বাংলার কুখ্যাত অপরাধীদের জীবনের রোমহর্ষক অধ্যায় নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ওয়েব সিরিজ ‘গণশত্রু’। বাস্তব ঘটনার নির্যাসে গড়া এই সিরিজে দেখা যাবে ৫ জন ভয়ঙ্কর মানুষের জীবনগাথা— যারা একসময় হয়ে উঠেছিলেন সমাজের ‘গণশত্রু’। ৩১ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে সিরিজটি, দেখা যাবে জি ফাইভে। প্রযোজনায় বাংলা টকিজ।
অন্ধকারের হাতছানিতে যাঁরা স্বাভাবিক জীবনের সীমানা পেরিয়ে পা রেখেছিলেন অপরাধের দুনিয়ায়, সেইসব চরিত্রকেই নতুনভাবে জীবন্ত করতে চলেছেন পরিচালকরা। সমাজ, অর্থনৈতিক চাপ, কিংবা মানসিক বিপর্যয়, নানা কারণেই সাধারণ মানুষ কীভাবে হয়ে ওঠেন রক্তমাখা ইতিহাসের অংশ, সে উত্তরই খুঁজবে ‘গণশত্রু’। রোমাঞ্চকর এই সিরিজে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পাওলি দাম, রুদ্রনীল ঘোষ, আয়ুষ দাস, দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় এবং সুব্রত দত্ত। ৫টি পর্বে ৫ জন কুখ্যাত চরিত্রের গল্প বলা হবে। যারা প্রত্যেকেই অপরাধ ইতিহাসের পাতায় অমোচনীয় কালিতে রয়ে গিয়েছেন। পাওলি দাম অভিনয় করছেন ভারতের প্রথম নারী সিরিয়াল কিলার ত্রৈলোক্যতারিণী চরিত্রে। বিধবা এই নারী সমাজের অবমাননা, দারিদ্র্য ও টাকার লোভে হয়ে উঠেছিলেন এক নিষ্ঠুর খুনি। পাওলির কথায়, ‘ত্রৈলোক্যতারিণী নিয়ে এতদিন কেউ কোনো কাজ করেনি। এই চরিত্রটি আমার কাছে অভিনয়ের দিক থেকে এক দুঃসাহসিক অভিজ্ঞতা।’
রুদ্রনীল ঘোষকে দেখা যাবে হুগলির কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুব্বা শ্যামল-এর ভূমিকায়। একসময় রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে তোলাবাজি থেকে জমির দখলদারি— সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল তার সাম্রাজ্য। হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগণা, বিশাল এলাকাজুড়ে ছিল তার একছত্র প্রভাব। রুদ্রনীল বলেন, ‘হুব্বা শ্যামল হুগলির দাউদ ইব্রাহিম ছিল। তার রক্তমাখা জীবনের গল্প ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। তবে পরিচালকের সহযোগিতায় আমরা এমন একটা বাস্তবচিত্র তৈরি করেছি যা দর্শকের বিশ্বাস অর্জন করবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা কেউ অপরাধকে গৌরবান্বিত করছি না, বরং খুঁজছি— কীভাবে একজন মানুষ সমাজের শত্রুতে পরিণত হয়।’ অভিনেতা আয়ুষ দাস এই সিরিজে অভিনয় করছেন ষোলো বছর বয়সেই একাধিক খুনের দায়ে কুখ্যাত হয়ে ওঠা সজল বারুই চরিত্রে। সন্দীপ রায়ের ‘তোপসে’ হিসেবে জনপ্রিয় আয়ুষ জানান, ‘এই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে মানসিকভাবে ভীষণ চাপের মধ্যে ছিলাম। তবে এত শক্তিশালী একটি গল্পের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’
অন্যদিকে দেবপ্রিয় মুখোপাধ্যায় রূপ দিচ্ছেন ভয়ঙ্কর খুনি চেন ম্যান-এর চরিত্রে, যে নির্দ্বিধায় একের পর এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করত। দেবপ্রীয়র জানিয়েছেন, ‘চেন ম্যান চরিত্রটি এমন এক বিকৃত মানসিকতার প্রতিফলন, যেখানে মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা হিংসায় রূপ নেয়। এই ভূমিকায় কাজ করা, ভয়ঙ্কর এক মানসিক যাত্রা।’ সুব্রত দত্ত অভিনয় করছেন রশিদ খান চরিত্রে। রশিদ খানের নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বউবাজার বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সুব্রত বলেন, ‘রশিদ খান ছিলেন এক নির্মম বাস্তবতার প্রতীক। আমরা চেষ্টা করেছি বাস্তব তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রেখে তাঁর গল্পটিকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে।’
‘গণশত্রু’-এর আরেকটি বড়ো আকর্ষণ এর নির্মাণরীতি। প্রতিটি পর্ব পরিচালনা করেছেন ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক, ফলে প্রতিটি গল্পের চিত্রনাট্য, ভাবনা এবং আবহ পেয়েছে নিজস্ব রঙ ও ছন্দ। ‘ত্রৈলোক্যতারিণী’ অধ্যায়টি পরিচালনা করেছেন খ্যাতনামা সিনেমাটোগ্রাফার মধুরা পালিত, যিনি এবারই প্রথম পরিচালনায় নামছেন। ‘হুব্বা শ্যামল’ পর্বে নির্দেশনায় রয়েছেন শ্রীমন্ত সেনগুপ্ত, ‘চেন ম্যান’ পরিচালনা করেছেন অভিরূপ ঘোষ, রশিদ খান পর্বের দায়িত্বে সায়ন দাশগুপ্ত, আর সজল বারুইর গল্প বুনেছেন শমীক রায় চৌধুরী। প্রযোজক সংস্থার দাবি, প্রতিটি গল্পই নির্মিত হয়েছে গভীর গবেষণার মাধ্যমে, যাতে কাল্পনিক আবহের মধ্যেও বাস্তবতার ছায়া স্পষ্ট থাকে। সিরিজটি শুধুমাত্র অপরাধের গল্প নয়, বরং এটি এক সামাজিক প্রতিফলন, যেখানে দেখা যাবে কীভাবে ক্ষমতা, লোভ, বঞ্চনা ও মানসিক বিপর্যয় মিলেমিশে মানুষকে রূপান্তরিত করে ‘গণশত্রু’তে। রুদ্রনীল ঘোষের কথায়, ‘আমরা সবাই জানি এই মানুষগুলো অপরাধী, কিন্তু কেন তারা এমন হল, সেটা জানতে আমরা সচরাচর আগ্রহী নই। এই সিরিজ সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবে।’ ৩১ অক্টোবর জি ফাইভে মুক্তি পেতে চলা ‘গণশত্রু’ যে নিঃসন্দেহে হতে চলেছে বাংলা ওয়েব দুনিয়ার অন্যতম আলোচিত রিলিজ, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
❤ Support Us







