Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৫

গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন খারিজ । বুলডোজারে ভাঙা পড়বে তৃণমূল সাংসদের বাড়ি ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন খারিজ । বুলডোজারে ভাঙা পড়বে তৃণমূল সাংসদের বাড়ি ?

গুজরাট হাইকোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। বরোদা পৌর কর্পোরেশনের জমি খালি করার নোটিশের বিরুদ্ধে তিনি যে আবেদন করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে গুজরাট হাইকোর্ট। ভেঙে ফেলা হতে পারে পাঠানোর বাংলো। গুজরাট হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার।
বরোদার তান্ডালজায় ইউসুফ পাঠানের একটা বিলাসবহুল বাংলো আছে। বাংলোর পাশে সরকারের একটা জমি ছিল। নিরাপত্তার কারণে ২০১২ সালের মার্চে ইউসুফ পাঠান এই প্লটটি তাঁকে বরাদ্দ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। ২০১২ সালের ৩০ মার্চ বরোদা পৌর কর্পোরেশনের স্থায়ী কমিটি মূল্যায়নের পর প্রতি বর্গমিটার ৫৭২৭০ টাকা দরে প্লটটি পাঠানকে বরাদ্দ করে। যেহেতু টেন্ডার ছাড়াই জমিটি পাঠানকে দেওয়া হয়েছিল, তাই পৌর কর্পোরেশন রাজ্য সরকারের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠায়।
২০১৪ সালের জুন মাসে গুজরাট সরকার জমি অনুমোদনের বিষয়টা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু পাঠান জমি দখল করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করেন। সরকার জমি অনুমোদন প্রত্যাখান করলেও ১২ বছর বরোদা পৌর কর্পোরেশন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। ২০২৪ সালের জুন মাসে পৌর কমিশনার পাঠানকে জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে পাঠান হাইকোর্টে আবেদন করেন। হাইকোর্ট পাঠানের আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানায়, জমির ওপর তাঁর কোনও অধিকার নেই। অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে হবে। অধিগ্রহণ করা জমির ওপর থেকে পাঠান যদি স্বেচ্ছায় দখল না ছাড়ে তাহলে বুলডোজার চালিয়ে প্রাচীর ভেঙে ফেলবে বরোদা পৌর কর্পোরেশন।
শুনানির পর বিচারপতি মোনা এম ভাট ২৮ পাতার তাঁর আদেশে বলেছেন, ‘‌সেলিব্রিটিরা সমাজের আদর্শ। তাঁদের জবাবদিহিতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। জনসাধারণের আচরণ ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর সেলিব্রিটিদের দারুণ প্রভাব রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করা সত্ত্বেও যদি এদের ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে। বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগনের আস্থা কমবে।’‌
পাঠানের আইনজীবী যতীন ওঝা আদালতে যুক্তি দেন যে, গুজরাট রাজ্য পৌর কর্পোরেশনের আইন, ১৯৪৯ অনুসারে সম্পত্তি নিষ্পত্তির জন্য পৌর কর্পোরেশনের রাজ্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, ‘‌যদি আবেদনকারীর দখল যুক্তিসঙ্গতভাবে দেখা হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যেতে পারে যে ১২ বছর ধরে পৌর কর্পোরেশন কিছুই করেনি।’‌ যতীন ওঝা আরও যুক্তি দেন যে, রাজনৈতিক কারণেই পাঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পৌর কর্পোরেশন। পাঠান পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূলের সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পরই বিজেপিশাসিত পৌর কর্পোরেশন ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!