- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ৩, ২০২৫
অর্থ সংগ্রহের জন্য ৭ বার অমৃতসর সফর, পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার আইনজীবী রিজওয়ান
পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন গুরুগ্রামের আইনজীবী রিজওয়ান। গুপ্তচরবৃত্তির টাকা সংগ্রহের জন্য তিনি পাঞ্জাবে গিয়েছিলেন। পুলিশকে এমনই জানিয়েছেন তাঁর বন্ধু মোশারফ ওরফে পারভেজ। পারভেজকে আগেই আটক করেছিল পুলিশ। ২০২২ সালে সোহনা আদালতে ইন্টার্নশিপের সময় আইনজীবী রিজওয়ানের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব হয়।
সোহনা আদালতে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর মোশারফ নুহ আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করেন। অন্যদিকে রিজওয়ান গুরুগ্রাম আদালতে প্র্যাকটিস করেন। আলাদা আলাদা আদলতে প্র্যাকটিস করলেও দুজন ঘন ঘন আইনি লেনদেনে জড়িত ছিলেন। এমনকি বেশ কয়েকবার একসঙ্গে বাইরেও গিয়েছিলেন। গুপ্তচরবৃত্তি এবং পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই–কে তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া রিজওয়ানের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল। অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি ৭ বার অমৃতসরে গিয়েছিলেন। পুলিশকে এমনই জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী বন্ধু পারভেজ।
পারভেজ পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তিনি এবং রিজওয়ান জুলাই মাসে তাঁর গাড়িতে করে অমৃতসর ওয়াঘা সীমান্তে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁরা স্বর্ণ মন্দির পরিদর্শন করেন। সেখানে রিজওয়ান বাইকে করে আসা কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকার ব্যাগ সংগ্রহ করেন। তবে পারভেজ তাদের শনাক্ত করতে পারেননি। বাড়ি ফেরার সময় অমৃতসরে রিজওয়ানের গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এরপর তাঁরা গাড়ি ছেড়ে ট্রেনে করে গুরগ্রামে ফিরে আসেন। ১ আগস্ট তাঁরা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি আনতে আবার অমৃতসর যান। সেই সময় তাঁরা অমৃতসরের একটা হোটেলে ছিলেন। রিজওয়ান রাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। পারভেজকে জানান, টাকা নিয়ে ফিরবেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ জানতে পেরেছে, রিজওয়ান স্করপিও এবং স্কোডা গাড়ি নিয়ে টাকা আদায়ের জন্য ৭ বার অমৃতসর গিয়েছিলেন। রিজওয়ান পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি ৪১ লক্ষ টাকা নগদ টাকা আদায় করেছিলেন। সেই টাকা তিনি অজয় অরোরা নামে এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
আরও জানা গেছে যে, রিজওয়ানের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। তাউরুতে একটা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে ও সোহনায় একটা ইন্ডাসইন্ড ব্যাঙ্কে। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, লেনদেন সীমা অতিক্রম করার কারণে কয়েক মাস আগে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর থেকে বোঝা যায় যে, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা হাওলা তহবিল জমা হয়েছিল, যার একটা বড় অংশ পাঞ্জাবে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলি রিজওয়ানের ল্যাপটপ এবং ফোনে সন্দেহজনক লেনদেনের সন্ধান পেয়েছে।
গোয়ান্দারা জানিয়েছেন যে, পারভেজ ও রিজওয়ানকে গ্রেফতারের কিছুক্ষণ আগে ফোনে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। রিজওয়ানকে আটক করার দিনেই নুহ পুলিশ পারভেজকে আটক করে। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থাগুলি তাঁর সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রমাণ না পাওয়ায় চার দিন পরে তাঁকে গ্রেফতার করে। পাকিস্তানি গুপ্তচরবৃত্তি মামলার তদন্তকারী নুহ স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম এখনও পর্যন্ত অমৃতসর থেকে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন সন্দীপ সিং ওরফে গগন, অমনদীপ সিং এবং জসকরণ সিং। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা রিজওয়ানের কাছে স্থানান্তর এবং পাঞ্জাবে দেশবিরোধী কার্যকলাপে অর্থ জোগানের অভিযোগ রয়েছে।
❤ Support Us







